সিলেটের পরিবহন খাতে বিরাজমান অনিয়ম ও অরাজকতা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। যাত্রী দুর্ভোগ লাঘব এবং এই খাতে গড়ে ওঠা পাহাড় সমান দুর্নীতিরোধে দ্র\”ত কয়েকটি সিদ্ধানত্দ বাসত্দবায়নের পরই সিলেটের পরিবহন খাত দেশে একটি মডেল হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে আশা করছেন সিলেটের জেলা প্রশাসন ও এখানে কর্মরত যৌথবাহিনীর দায়ত্বশীলরা।
সিলেটের পরিবহন খাতে বিরাজমান সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কয়েকটি সমাধানের জন্য কাজ শুর\” হয়েছে। গত প্রায় ৩ বছর আরটিসি বৈঠক না হওয়াকে এমনই একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যার মাধ্যমে জমে ওঠা অনেক সিদ্ধানত্দই সচল করা গেছে।
নগর পরিবহনে উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চালু করা হয়েছে টাউন বাস সার্ভিস। সিএনজি বেবিট্যাক্সিতে মিটার ব্যবস্থা চালুর জন্য একটি কমিটি কাজ করছে। অবৈধ রিকশা উচ্ছেদের পাশাপাশি নতুন আরো ১০ হাজার লাইসেন্স প্রদান করা হবে। নতুন রিকশা প্রদানের জন্য ওয়ার্ড কমিশনারের মাধ্যমে নগরীর দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবার খুঁজে বের করা হবে।
দেশে জর\”রি অবস্থা জারির পর সিলেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন যোগাযোগ খাতে বিশেষ নজরদারি শুর\” করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানেই বেরিয়ে আসে রোড পারমিটবিহীন অসংখ্য গাড়ি। গাড়ি বন্ধ কিংবা আটকের মতো হটকারী সিদ্ধানত্দ গ্রহণ না করে প্রশাসন নমনীয় ভূমিকা নেয়। গাড়ির মালিকদের দ্র\”ত রোড পারমিট করার সুযোগ দেওয়া হয়। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে অধিকাংশ মালিকই রোড পারমিট গ্রহণ করেছেন। অন্যরাও পারমিট গ্রহণের প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছেন। তবে এরপরও যারা পারমিট গ্রহণ করবেন না তাদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন।
পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে প্রশাসনে মতবিনিময়ে ড্রাইভাররা জানিয়েছেন, তাদের প্রায় ১ হাজার ৫০০ ড্রাইভার জাল লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালান। লাইসেন্স প্রদানকারী অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে ড্রাইভাররা বাধ্য হয়ে জাল লাইসেন্স গ্রহণ করেছেন জানার পর এ ব্যাপারেও সহনশীল সিদ্ধানত্দ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। বিআরটি এ থেকে সকল প্রকারের জঞ্জাল ইতিমধ্যে দূর করা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেছেন, সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে দ্র\”ত ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দির্ঘদিন ধরে ড্রাইভিং পেশার সঙ্গে যুক্ত স্বল্প শিক্ষিতরা যাতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন, সেজন্য লিখিত পরীক্ষায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
ড্রাইভারদের জন্য আইডি কার্ড ও পোশাক প্রবর্তন করা হবে। এজন্য বিন্যসত্দ কম্পিউটার ডাটাবেজ সংরক্ষণ করা হবে যাতে তাদের ব্যাপারে সব তথ্য সব সময় পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে ড্রাইভারদের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া টার্মিনালগুলোতে আমূল পরিবর্তন আনা হবে। বর্তমানে টার্মিনালের যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে রাখার ব্যাপারে উম্মা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন টার্মিনাল থেকে শুধুমাত্র যাত্রী ওঠানামা করার কথা থাকলেও টার্মিনালকে বাস রাখার স্থানে পরিণত করা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় টার্মিনালের বাইরে গাড়ি রাখাকে নির\”ৎসাহিত করা হবে। তবে সেখানে গাড়ি ভাড়ায় রাখার একটি ব্যবসত্দা রাখা হবে। গাড়ির জর\”রি মেরামতের জন্য করা হবে ওয়ার্কশপ। যাত্রীসেবা বৃদ্ধি করা হবে। নামাজের জন্য সুপরিসর স্থান নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া যাত্রী হয়রানি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায়ও পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন। চাদাবাজি বন্ধ করা হবে এবং শ্রমিক সংগঠনে স্বচ্ছতা আনা হবে।
সূত্রঃ http://bhorerkagoj.net/online/news.php?id=9010&sys=1


