কীন ব্রিজে এক ঘণ্টা রিকশা ঠেলে জীবন চলে

‘রিকশা ঠেলানি খুব কষ্টের৷ রিকশা ঠেলানির সময় পেটের ক্ষুধায়ও ঠেলা দেয়৷’ এ মন্তব্য মিঠু নামের এক রিকশা ঠেলাওয়ালার৷ সুরমা নদীর উপর নিির্মত সিলেট নগরীর একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার নাম কীন ব্রিজ৷ ১৯৩৬ সালে এটি নিির্মত হয়৷ বৃটিশ শাসক মাইকেল কীনের নামে ব্রিজটির নামকরণ করা হয়৷ এ ব্রিজকে সিলেট শহরের প্রবেশদ্বারও বলা হয়৷ ব্রিজটির দু’পাশ ঢালু৷ এ ঢালু জায়গা পার হতেই রিকশাচালকরা ঠেলাওয়ালাদের সহায়তা নিয়ে থাকে৷ সোমবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কীন ব্রিজ এলাকায় অবস্থান করে মিঠুসহ আরো কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয়৷ মোট কতো শ্রমিক এখানে কাজ করে এর কোনো পরিসংখ্যান নেই৷ তবে শ্রমিক ও পার্শ্ববর্তী দোকানদার জানায়, এখানে শ্রমিকের সংখ্যা এক হাজারের কম হবে না৷ রিকশা ঠেলেই তাদের জীবন চলে৷ মিঠু জানায়, রিকশা ঠেলে প্রতিদিন তার ১৫০ থেকে ২০০ টাকা আয় হয়৷ এ আয় দিয়েই তার সংসার চলে৷ মিঠু আরো জানায়, সিলেট নগরীতে আসা কোনো শ্রমিকের প্রথম ঠিকানা হলো রিকশা ঠেলা৷ নতুন শ্রমিকরা এ নগরীতে এসে রিকশা ঠেলার কাজে যোগ দেয়৷ এখানে কিছুদিন কাটানোর পর তারা অন্য কাজে যায়৷ বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার েটংরাখালি গ্রামের নুরুল ইসলাম গত ৯ বছর ধরে রিকশা ঠেলার কাজ করে৷ সে জানায়, রিকশা ঠেলার কাজ স্বাধীনভাবে করা যায়৷ ঠেলা দিলে খাইলাম, না দিলে বসে থাকলাম৷ সে আরো জানায়, অনেক দালাল আছে যারা কাজের কথা বলে নিয়ে যায়৷ কিন্তু কাজ শেষে বিকাল বেলা ফেরার সময় পিছে পিছে হাঁটায়, টাকা দিতে চায় না৷ এ কারণে অন্য কাজ করার প্রতি তার আগ্রহ নেই৷ রিকশা ঠেলে মাসে দুই হাজার টাকা সে বাড়িতে পাঠায় বলে জানায়৷ নারায়ণগঞ্জের তল্লা গ্রামের রফিক হোসেন জানায়, ঢাকার সদরঘাটে সে লেবারের কাজ করতো৷ ১৫ দিন পূের্ব সে তার বন্ধুদের সঙ্গে সিলেটে বেড়াতে এসেছিল৷ এরপর থেকে সে কীন ব্রিজ এলাকায় ঠেলার কাজ করছে৷ সে জানায়, প্রতিদিন শ’খানেক টাকা রোজগার করে৷ এ টাকা দিয়ে তার প্রতিদিনের খোরাকি চলে৷ দক্ষিণ সুরমার একটি বোির্ডংয়ে প্রতিদিন পাঁচ টাকা প্রদানের বিনিময়ে সে রাত কাটায়৷ শ্রমিকরা জানায়, এখানে সকালে যারা রিকশা ঠেলে বিকালে তারা থাকে না৷ আবার বিকালে যারা রিকশা ঠেলে তারা সকালে থাকে না৷ তবে বেলা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের ভিড় থাকে বেশি৷ দিনভর পরিশ্রম করে শ্রমিকরা কীন ব্রিজের গোড়া, সিলেট রেলস্টেশন আবার কেউ কেউ বিভিন্ন কলোনিতে রাত কাটায়৷ সরেজমিন দেখা যায়, ব্রিজ এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি খাবারের দোকান৷ এসব দোকানেই শ্রমিকরা খাওয়া-দাওয়া করে৷ একটি রিকশা ঠেলে একজন শ্রমিক পায় দু’টাকা৷ সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে উত্তর প্রান্তে রিকশা চলাচল বন্ধ রাখা হয়৷ তবে উত্তর প্রান্ত দিয়ে রিকশা চলাচল স্বাভাবিক থাকে৷ তাই এ সময় সেতুর উত্তর প্রান্তে ঠেলা শ্রমিকদের ভিড় থাকে বেশি৷

সূত্র: http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=8420&issue=54&nav_id=5

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: