সংঘের্ষর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের মতবিনিময় শেষ; বৈঠক থেকে সুরঞ্জিতকে দু’দফা বের করে দিলেন শেখ হাসিনা

দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনেই সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও প্রয়াত নেতা আবদুস সামাদ আজাদের অনুসারীদের সংঘের্ষর মধ্য দিয়ে শেষ হলো রাজধানী ছাড়া অন্য সব জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মতবিনিময় কর্মসূচি৷ জেলা পর্যায়ের তৃণমূল নেতারা বৈঠক শুরুর আগে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান৷ এক পর্যায়ে এই বিক্ষোভ থেকে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি, কিল-ঘুষি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে৷

এদিকে শেখ হাসিনা নিজেই সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে বৈঠক থেকে দু’দফা বের করে দেন বলে জানা গেছে৷ ঘটনা শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে৷ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তৃণমূল নেতাদের বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে গেলে তার সমর্থকরা তাকে স্বাগত জানায়৷ অন্যদিকে আবদুস সামাদ আজাদের সমর্থকরা তার বিরুদ্ধে স্লvেগান দিতে থাকে৷ এক পর্যায়ে তারা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানায়৷ বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ভেতরে ঢুকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ সরাসরি শেখ হাসিনাকে জানানোর জন্য কার্যালয়ের গেট ধরে টানা-হেঁচড়া শুরু করেন৷ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমর্থকরা এ সময় তাদের বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়৷ দু’পক্ষের মধ্যে কিল-ঘুষি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ৫-৬ মিনিট ধরে চলে৷ পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়৷ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত টানা ৪ ঘণ্টা সুনামগঞ্জ জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনা মতবিনিময় করেন৷ মতবিনিময় চলাকালে দুপুর পৌনে ১টার দিকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমর্থকরা কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় মিছিল করে৷ তারা আবদুস সামাদ আজাদের সমর্থকদের ‘ধানের শীষের দালাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে৷ দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ের সামনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা মিছিলকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন৷ এ সময় মিছিলকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়৷ এদিকে বৈঠক চলাকালেও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তৃণমূল নেতাদের তোপের মুখে পড়েন৷ বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন তৃণমূল নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে বৈধ কমিটির নেতাদের বাদ দিয়ে নিজের পছন্দের নেতাদের নাম ঢুকিয়ে গতকালের বৈঠকে যোগদানের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগ আনেন৷ তারা অভিযোগ করেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করছেন৷ তিনি পকেট কমিটি গঠন করে তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন৷ এমনকি তারা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের হাত থেকে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ রক্ষার জন্য শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান৷ তারা বলেন, জেলা কমিটিকে সরাসরি শেখ হাসিনার নিয়ন্ত্রণে চলার সুযোগ দিতে হবে৷ তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য শুনে শেখ হাসিনা নিজেও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ভূমিকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন৷ তাকে উদ্দেশ্য করে এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, আপনি এমপি বা মন্ত্রী হবেন তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই৷ কিন্তু আপনি আমার সংগঠনে হাত দেবেন না৷ সুনামগঞ্জের বিষয় আমি দেখবো৷ শেখ হাসিনা তৃণমূল নেতাদের আশ্বস্ত করেন, দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহমান অচিরেই সুনামগঞ্জের কোন্দল নিরসনে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন৷ বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে, শেখ হাসিনা দু’দফায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে বৈঠক থেকে বের করে দেন৷ পরে সভাপতিমণ্ডলীর অন্য সদস্য তোফায়েল আহমেদ তাকে বৈঠকে ডেকে আনেন৷ আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর, দিরাই ও দোয়ারাবাজার উপজেলা এবং পৌর কমিটি থেকে আবদুস সামাদ আজাদের সমর্থক ৫ নেতাকে বাদ দিয়ে তাদের জায়গায় সুরঞ্জিত সমর্থকদের বৈঠকে স্থান করে দেয়াকে কেন্দ্র করে গতকালের সংঘের্ষর ঘটনা ঘটে৷ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সভাপতি হাজী আবুল কালাম আজাদের জায়গায় আবদুর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেনের জায়গায় তোরাব আলীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ একইভাবে দিরাই উপজেলার সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের জায়গায় প্রদীপ রায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ এছাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দোয়ারাবাজারের যুগ্ম আহ্বায়কের নাম বাদ দিয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তার পছন্দের নেতাদের নাম ঢুকিয়ে দেন৷ পরে অবশ্য হাজী আবুল কালাম আজাদ ও মোবারক হোসেনসহ অন্যদের সঙ্গে শেখ হাসিনা পৃথক বৈঠক করেন৷ বৈঠকে তৃণমূল নেতারা জেলায় দলের সাংগঠনিক অবস্থা শেখ হাসিনার সামনে তুলে ধরেন৷ তারা আগামী নির্বাচনে সত্ ও যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে জেলার পাঁচটি আসন আওয়ামী লীগ পাবে বলে শেখ হাসিনাকে জানান৷ এ সময় শেখ হাসিনা দলের পক্ষ থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন তার পক্ষে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান৷ সুনামগঞ্জ জেলার যেসব কমিটির এখনো সম্মjেন হয়নি সেই কমিটিগুলোর সম্মjেন আগামী নির্বাচনের আগে শেষ করার জন্য নিের্দশ দেন৷ আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যেসব নেতাদের নাম বাদ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা তাদের সঙ্গে প্রায় আধ ঘণ্টা বৈঠক করেন৷ স্থানীয় নেতারা এ সময় দলীয় সভানেত্রীর কাছে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন৷ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এরকম কর্মকাণ্ডের ভর্ত্সনা করেন শেখ হাসিনা৷ বৈঠকে উপস্থিত দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল তার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে স্বীকার করেন৷ উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার কমিটি থেকে বাদ পড়া পাঁচ নেতা আবদুল জলিলের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে তাদের নাম বাদ দেয়ার বিষয়টি জানান৷ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আবদুল জলিল তাদের অভিযোগকে তেমন আমল দেননি৷ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যে পাঁচ নেতার নাম কমিটি থেকে বাদ দিয়েছিলেন তাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকে তিনিও উপস্থিত ছিলেন৷ শেখ হাসিনা এ সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর না করেন৷ তিনি ব্যক্তিগতভাবে যেসব নেতাকে কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন৷ তিনি বলেন, বাদ পড়া নেতারা কমিটিতেই বহাল থাকবে৷ সূত্রঃ যাযাদি

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: