সিলেট অঞ্চলে অনাবাদি থাকে দুই লাখ হেক্টর জমি

প্রবাসীবহুল সিলেটে সিলেট বিভাগে ফসল হয় কম৷ প্রতি বছর অনাবাদি পড়ে থাকে শত শত একর জমি ৷ সরকারি হিসাবে শুধু সিলেট জেলার ১১ উপজেলাতেই কমপক্ষে ১ লাখ ৮১ হাজার ৩০ হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে থাকে৷ বেসরকারি হিসাবে এ অনাবাদি জমির পরিমাণ আরো বেশি৷ প্রবাসীদের কৃষিতে বিনিয়োগে অনাগ্রহ, সেচের পানির তীব্র সঙ্কট, স্থানীয়দের কৃষিকাজে অভিজ্ঞতা ও ধৈের্যর অভাব এবং বেশি মজুরিসহ নানা কারণেই এসব ফসলি জমি অনাবাদি পড়ে থাকে৷ সিলেটের এসব অনাবাদি জমিতে প্রবাসীরা এখন কাঁড়ি কাঁড়ি অের্থ শুধুই বিলাসবহুল বাড়ি বানাচ্ছেন৷

এছাড়াও তুলছেন কমিউনিটি সেন্টার, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক প্রকল্প৷ সিলেট সদর উপজেলায় গত এক বছরের ব্যবধানেই বিপুল পরিমান ফসলি জমিতে প্রবাসী ও ধনাঢ্যরা অর্ধ শতাধিক আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলেছেন৷ সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোঃ জহুরুল ইসলাম জানান, সিলেটের প্রবাসীরা কৃষিতে বিনিয়োগ করলে এ অঞ্চলের কৃষির সব সম্ভাবনা বিকাশ লাভ করতো৷ এখানে শিল্প কারখানা যেমন নেই তেমনি কৃষির বড় খামারও চোখে পড়ে না৷ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, সিলেটে সব মিলে জমি রয়েছে ৩ লাখ ৪৯ হেক্টর৷ এর মধ্যে আবাদি জমির পরিমাণ ২ লাখ ৪১ হাজার ১৩০ হেক্টর৷ অন্তত ১ লাখ ৮১ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতেই চাষাবাদ হয় না৷ এর মধ্যে ৩২ হাজার হেক্টর জমি নানা কারণে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়েছে৷ কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সিলেটের সিংহভাগ এলাকায় আবাদি জমিতে একটি ফসল হয়৷ জেলায় এক ফসলি জমি রয়েছে ৭৮ হাজার ২৭২ হেক্টর৷ দুই ফসলি জমি রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ হেক্টর৷ তিন ফসলি জমি রয়েছে ১৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর৷ তিন ফসলি জমিতেও একটি ফসল হয়৷ সেচের পানির অভাবে বাকি দু দফা ফসল ফলানো সম্ভব হয় না৷ সিলেটের গোলাপগঞ্জ, বিশ্বনাথ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলা প্রবাসীবহুল৷ এ সব এলাকার সিংহভাগ লোকজন বৃটেনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকেন৷ এ সব এলাকায় অনেক ফসলি জমিতেও গড়ে তোলা হয়েছে নজরে পড়ার মতো সব ভবন৷ কিন্তু মাঠ রয়েছে ফাঁকা৷ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দু’ধারের বিশাল জমিও ফাঁকা থাকতে দেখা যায় বছরের পর বছর৷ সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, এখানকার মানুষের বিরাট একটি অংশ বৃটেনে থাকেন৷ এছাড়া এলাকাবাসী প্রবাসী স্বজনের অের্থ কৃষিকাজও করতেও আগ্রহী হন না৷ বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নই তাদের এ থেকে দূরে রাখে৷ এ কারণে কানাইঘাট ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় পড়ে আছে ফাঁকা জমি৷ তিনি জানান, কানাইঘাটে ২০ হাজার হেক্টর আবাদি জমির বিরাট অংশেই চাষাবাদ হয় না৷ সেচের পানির জন্য স্থানীয়ভাবে থাকা সব উত্স শুকিয়ে যাওয়ায় শীতকালে পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দেয়৷ এ সময় এখানে রবিশস্যও হতে পারতো৷ তবে সেটা সম্ভব হয় না৷ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সিলেটের উপপরিচালক মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, সিলেটের সুরমা নদীর পানি কমে গেছে৷ অন্যান্য সব খালও দখল হয়ে গেছে৷ যে কারণে শীতকালে সেচের পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দেয়৷ এখানে খাল পুনঃখননের প্রকল্প নেয়া দরকার৷

Source: http://jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=10345&issue=68&nav_id=11

Advertisements

One Response to সিলেট অঞ্চলে অনাবাদি থাকে দুই লাখ হেক্টর জমি

  1. Mohammad Abu Sadique বলেছেন:

    Many many thanks

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: