বারবার ফসলহানিতে কমছে কৃষকের আগ্রহ

সিলেটে চাষাবাদের একটি বড়ো অংশই হাওরের দেশ সুনামগঞ্জে৷ কিন্তু বারবার ফসলডুবির ঘটনায় এখানকার কৃষকরা গরিব থেকে গরিব হচ্ছেন৷ অনেকে আবার সর্বশান্ত হয়ে চাষাবাদই ছাড়ছেন৷ ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত সময়ে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পাঁচ বছরে দফায় দফায় আকস্মKি বন্যায় সরকারি হিসাবেই প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ফসলহানি ঘটেছে৷ পাঁচ বছরে এক বছর পর পর ফসলডুবির ঘটনায় প্রকৃতির বৈরিতার চেয়ে পানি উন্নয়ন বোের্ডর কর্মকর্তাদের দুর্নীতিকেই দায়ী করছে সাধারণজনরা৷

সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে সমাজ সচেতন মানুষের একটিই কথা- হাওরের ফসল রক্ষায় পাউবোর পরিকল্পনা আর নয়৷ সুনামগঞ্জে এক ফসলি বোরো চাষাবাদের ওপর কৃষকদের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল৷ এখানে হাজারেরও বেশি হাওরের মধ্যে বড় ৫২টি হাওর বোরো ফসলের জন্য বিখ্যাত৷ এ ৫২টি হাওরের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২৮টি হাওরের ফসল রক্ষায় প্রতি বছর অস্থায়ীভাবে ১ হাজার কিলোমিটার দৈের্ঘ্যর বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে৷ পানি উন্নয়ন বোের্ডর (পাউবো) বাঁধ নির্মাণ কাজের ওপর হাওরের ফসল রক্ষার বিষয়টি নির্ভর করে৷ অভিযোগ রয়েছে, বাঁধ নির্মাণ কাজে কৃষকের মতামত উপেক্ষা করে কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারদের কথামতো করায় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বাঁধ ভেঙে ফসলডুবি ঘটে৷ ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনবার ফসলডুবির চিত্র খতিয়ে দেখা গেছে, প্রাথমিকভাবে দায়ী পাউবোর প্রকল্প কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররাই৷ ২০০০ সালের ২৯ ও ৩০ এপ্রিল ৪০টি হাওরের ফসলডুবিতে বেসরকারি হিসাবে ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল৷ সরকারি হিসাবে এর পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭০ কোটি টাকা৷ কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতির ঘটনায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলকে ‘বিশেষ দুর্গত এলাকা’ ঘোষণার দাবিতে সর্বদলীয়ভাবে ‘গণঐক্য’ নামে একটি অরাজনৈতিক মোর্চা গঠিত হয়েছিল৷ ২০০১ সালে আবার ফসলডুবির ঘটনা ঘটে৷ ১৮ এপ্রিল খরচার হাওরের গজারিয়া খালের মুখের বাঁধ ভেঙে এক রাতেই ১৪টি হাওরের ফসল তলিয়ে যায়৷ এতে সরকারি হিসাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয় সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা৷ ২০০২ সালের ফসলডুবির সরেজমিন চিত্র নিয়ে পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় পাউবোর প্রকৌশলীসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়৷ পরের বছর ২০০৩ সালে বাঁধ নির্মাণ কাজ সরাসরি তদারকিতে নামেন বর্তমান সরকারের সুনমাগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত হুইপ ফজলুল হক আসপিয়া৷ সরেজমিন ঘুরে তিনি বাঁধ নির্মাণ কাজ পর্যবেক্ষণ করায় ২০০৩ সালে ফসলডুবি ঘটেনি৷ কিন্তু ২০০৪ সালের ফসলডুবির চিত্র ছিল সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ৷ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিগত ৩০ বছরের রেকের্ড এমন ফসলহানি ঘটেনি৷ জেলা প্রশাসনের হিসাবে ক্ষতি হয়েছিল ৩০০ কোটি টাকা৷ জানা গেছে, ২৮টি হাওরের ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণে এবার পাউবো বরাদ্দ চেয়েছিল ৫ কোটি টাকা৷ বরাদ্দ এসেছিল ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা৷ সুনামগঞ্জ পৌরসভা চেয়ারম্যান মমিনুল মউজদীন বলেন, সুনামগঞ্জের ধান রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোের্ডর বাঁধ নির্মাণের মধ্যে নানা ধরনের ফাঁক থাকে৷ অনেক সময় পাহাড়ি ঢল আসার আগে বাঁধ নির্মাণ হয় না৷ ফসল ডোবে বছরের পর বছর৷ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, হাওরের ফসল যাতে না ডোবে তার দিকে বোের্ডর নজর রয়েছে৷ বরাদ্দে সময়ক্ষেপণের কারণে বাঁধ নির্মাণ দেরি হয় বলে তিনি জানান৷ তিনি জানান, অনেক কৃষক গরু বিক্রি করে দেনা করে এখন ফসল হারাতে হারাতে সর্বশান্ত৷ চাষাবাদের দিকে তাদের মনোযোগ থাকলেও আির্থক কারণে তারা এখন আর এতে ঝঁুকতে চাইছেন না৷

সূত্রঃ http://jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=10346&issue=68&nav_id=11

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: