চার জঙ্গি আরো ১০ দিনের রিমান্ডে হাই কমিশনারের ওপর হামলাকারীরাই টার্গেট করেছিল সিলেটের মেয়রকে

সিলেটে বৃটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলার গতি সঞ্চারের পর এবার মেয়র কমরানকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত গতি পাচ্ছে৷ বৃটিশ হাই কমিশনারের ওপর হামলাকারীরাই মেয়রকে টার্গেট করে গ্রেনেড ছুড়েছিল৷ বৃটিশ হাই কমিশনারকে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া চার জঙ্গি ১০ দিন রিমান্ডে টানা জিজ্ঞাসাবাদে এ আভাস দিয়েছে৷ এ ক্লু পেয়ে সিআইডি গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের গুলশান সেন্টার চত্বরে মেয়রকে টার্গেট করে হামলার মামলায় আটক দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে৷


গতকালই তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়৷ সিআইডির একটি সূত্র জানায়, প্রথম দফায় আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় জড়িত দেখিয়ে চার জঙ্গিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ টানা ১০ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গিরা সিলেটে শুধু আনোয়ার চৌধুরীর ওপরই নয়, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, গুলশান সেন্টারে মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে লক্ষ্য করে হামলাসহ বিভিন্ন হামলায় তাদের জড়িত থাকার ব্যাপারে আভাস দিয়েছে৷ এসব হামলায় এই চার জঙ্গিই গ্রেনেড বহন করেছিল৷ তাদের সঙ্গে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল৷ পাকিস্তান হরকাতুল জিহাদের প্রতিষ্ঠাতা ফজলুর রহমান এবং তার অনুসারীদের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি বিপুল ও মিজানের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে৷ গ্রেফতার হওয়া চার জঙ্গির মধ্যে বিপুল ও মিজান আফগানিস্তানে গিয়ে মুজাহিদ হিসেবে যুদ্ধ করেছে৷ মুফতি হান্নানের সঙ্গে মিজান ১৯৮৫ সালে আফগানিস্তানে গিয়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছে৷ সূত্র জানায়, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ইসলামের ওপর আঘাত আসায় হরকাতুল জিহাদের নিবেদিত কর্মী হিসেবে বিপুল ও মিজান সিলেটে তত্পর হয়ে ওঠে৷ মুফতি হান্নানের সহযোগিতায় বিপুল সিলেটে হরকাতুল জিহাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতো৷ বৃটেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গেও তারা জড়িত রয়েছে৷ সিআইডি ধারণা করছে, সিলেট অঞ্চলে গ্রেনেড হামলাগুলোর ব্যাপারে এই চার জঙ্গির কাছ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে৷ গ্রেফতার হওয়া চার জঙ্গি শরীফ শামসুল আলম ওরফে বিপুল, বদরুল আলম মিজান, দেলোয়ার হোসেন ও সৈয়দ নাঈমকে গত ৪ সেপ্টেম্বর ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল৷ গতকাল সিলেটে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদুল হকের আদালতে তাদের হাজির করা হয়৷ সিআইডি আদালতের কাছে আবেদন জানালে তাদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়৷ গতকাল দুপুরেই জঙ্গিদের রাজধানী ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়৷ গতকাল তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান জানান, চার জঙ্গি মেয়র কামরানের ওপর হামলায় জড়িত বলে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে৷ এ রকম কিছু আভাসও আমরা তাদের কাছ থেকে পেয়েছি৷ এ কারণে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে৷ তদন্তের স্বার্থে তিনি এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি৷ উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ আগস্ট নগরীর গুলশান সেন্টারে গ্রেনেড হামলা হয় মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে লক্ষ্য করে৷ এ ঘটনায় মেয়রের ঘনিষ্ঠ সহচর মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ইব্রাহিম আলী মারা যান৷ ১১ আগস্ট মামলাটি সিলেট কোতোয়ালি থানা থেকে সিআইডির কাছে দেয়া হয়৷ ঘটনার পর প্রবাসী এসএম নুনু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়৷ গুলশান সেন্টারের মালিকের বাসার দারোয়ান বিল্লালের কাছ থেকে ১৫ আগস্ট সিআইডি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়৷ বিল্লাল এ জবানবন্দিতে ইব্রাহীমই গ্রেনেড ছুড়েছিল বলে উল্লেখ করে৷ কিন্তু এ মামলার চার্জশিট দেয়া হয়নি৷ এ জবানবন্দি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মেয়র কামরান অভিযোগ করেছেন৷ এরপর এ ব্যাপারে সিআইডি নীরব ছিল৷ তদন্ত ছিল থমকে৷ গতকাল এ মামলায় আটক দেখিয়ে চার জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় তদন্তে গতি এলো৷ মেয়র কামরানকে লক্ষ্য করে গত ডিসেম্বরে নগরীর টিলাগড়ে একটি গ্রেনেড হামলা হয়৷ এ ঘটনায় মেয়র কামরান অজ্ঞাতসংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন৷ মামলাটি এখনো গতি পায়নি৷ পরপর ৯ হামলা : ৬ হামলার তদন্ত হিমাগারে ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলে একের পর এক ১০টি বোমা ও গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে৷ ২০০৪ সালের ১২ জানুয়ারি সিলেটের হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর মাজার প্রাঙ্গণে, ২১ মে একই মাজার প্রাঙ্গণে বৃটিশ হাই কমিশনারকে লক্ষ্য করে, ৫ আগস্ট নগরীর দুই সিনেমা হলে দুটি হামলা, ৭ আগস্ট গুলশান হোটেল চত্বরে, সেপ্টেম্বরে নগরীর অদূরে বটেশ্বরে, ২৪ ডিসেম্বর নগরীর মহিলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এবং একই বছরের ২১ জুলাই সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বোমা ও গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে৷ ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগের জনসভায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াকে ও সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা হয়৷ সিলেট বিভাগের তিন জেলায় সংঘটিত এসব বোমা ও গ্রেনেড হামলার ঘটনায় সাবেক অর্থমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ ১৩ জন নিহত ও কমপক্ষে ২০০ লোক আহত হন৷ সিলেট ও সুনামগঞ্জে সংঘটিত ঘটনায় পৃথক মামলা ও ৩৫ জন গ্রেফতার হয়৷ কিন্তু এর মধ্যে বটেশ্বরে বোমা হামলা, অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার ওপর গ্রেনেড হামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে৷ আনোয়ার চৌধুরী ও মেয়র কামরানকে লক্ষ্য করে গুলশান সেন্টারে গ্রেনেড হামলার তদন্ত গতি পেয়েছে৷ কিন্তু বাকি ছয়টি মামলার তদন্তই থমকে আছে৷

Source: http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=12103&issue=80&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: