সিলেট বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ সরবরাহ

সিলেট বিভাগের চার জেলায় সর্বত্র এখন এক রব- বিদ্যুত্ নেই, বিদ্যুত্ নেই৷ গোটা বিভাগে বিদ্যুতের মোট চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ সরবরাহ করা হচ্ছে৷ পিডিবি সিলেট সূত্রে জানা গেছে, এ বিভাগে প্রতিদিন অন্তত ১৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৩২ থেকে ৪৬ মেগাওয়াট৷ গতকাল সরবরাহ করা হয় মাত্র ৩২ মেগাওয়াট৷ ফলে বিভিন্ন স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয় ফিডার৷

বিদ্যুতের চরম সঙ্কটের কারণে দিনে ও রাতে সিলেটের কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১২ বার লোডশেডিং করা হচ্ছে৷ জানা গেছে, সিলেট নগরীর পাঁচটি বিদ্যুত্ অভিযোগ কেন্দ্রে গড়ে প্রতিদিন শতাধিক অভিযোগ জমা পড়ছে৷ বারবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে নগরবাসীর ফ্রিজ, বাল্বসহ বিভিন্ন সামগ্রীও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷ গতকাল বেলা ১২টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত আম্বরখানা অভিযোগ কেন্দ্রে ৩০টি অভিযোগ জমা পড়ে৷ গতকাল দুপুর সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্টেডিয়াম ফিডারটি বন্ধ রাখা হয়৷ এ কারণে সিলেট নগরীর জামতলা, দাড়িয়াপাড়া, তালতলা জল্লার পাড়, মির্জাজাঙ্গালসহ বিভিন্ন এলাকা ছিল বিদ্যুত্হীন৷ পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, দুই সপ্তাহ ধরে এভাবে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে৷ এছাড়া তাদের কোনো উপায় থাকে না৷ সিলেট বিভাগে সব মিলে তিনটি বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র রয়েছে৷ কুমারগাঁও, শাহজীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত এসব বিদ্যুত্ কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের কথা রয়েছে৷ কিন্তু এসব কেন্দ্রের চারটি ইউনিট যন্ত্রাংশ ও পানির সঙ্কটের কারণে বন্ধ হয়ে আছে৷ এ কারণে বর্তমানে ১৭০ মেগাওয়াটের স্থলে উত্পাদন হচ্ছে ১০২ মেগাওয়াট৷ প্রতিদিন বিভাগে ৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কম উত্পাদন হচ্ছে৷ পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, ফেঞ্চুগঞ্জে ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের কথা থাকলেও এখানে একটি বয়লার ইউনিট পানি সঙ্কটের কারণে বন্ধ রয়েছে৷ ফলে ৯০ মেগাওয়াটের বিপরীতে উত্পাদন হচ্ছে ৭২ মেগাওয়াট৷ শাহজীবাজারে চারটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি বন্ধ রয়েছে৷ এখানে ৬০ মেগাওয়াটের স্থলে উত্পাদন হচ্ছে মাত্র ১০ মেগাওয়াট৷ জানা গেছে, সিলেট নগরীর ২৭ ওয়ার্ডের সর্বত্রই বিদ্যুত্ নেই রব৷ এর মধ্যে নগরীর জিন্দাবাজার, বারুতখানা, জল্লারপাড়, মহাজনপট্টি, বন্দর বাজার, পাঠানটুলা, মদিনা মার্কেট, বাগবাড়ি, আম্বরখানাসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে৷ মদিনা মার্কেট ও বাগবাড়ি এলাকায় গত এক মাস ধরে সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত একটানা বিদ্যুত্ থাকছে না৷ একই অবস্থা পাঠানটুলাসহ আশপাশের এলাকায়৷ নগরবাসী জানান, দাবদাহের কারণে এই বিদ্যুতের সঙ্কট বিদ্যুত্নির্ভর নগরজীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে৷ বিদ্যুত্ না থাকায় সিটি করপোরেশনও বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পানি সরবরাহ করতে পারছে না৷ এমনকি সিলেট অঞ্চলের অন্যতম চিকিত্সা কেন্দ্র এমএজি ওসমানী হাসপাতালেও একাধিকবার বিদ্যুত্ আসা-যাওয়া করে৷ ফলে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে৷ বাগবাড়ির বাসিন্দা আরিফ আজাদ খান বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যায় বই নিয়ে পড়তে বসলেই বিদ্যুত্ চলে যায়৷ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পালা রাত ১০টায়ও শেষ হয় না৷ নগরীর দাড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা তুহিন দাস টিটো বলেন, গরমে ঘেমে অস্থির হয়ে পড়লেও পাখা চালাতে পারি না৷ বাসার ফ্রিজও বিদ্যুতের কারণেই নষ্ট হয়ে আছে৷ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জসিমউদ্দিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলে আগে বিদ্যুত্ নিয়মিতই থাকতো৷ গত কয়েকদিন ধরে বারবার লোডশেডিং হচ্ছে৷ পিডিবি সিলেট বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী বদরুজ্জামান খান জানান, সিলেট বিভাগে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত্ পাওয়া যাচ্ছে না৷ ওই কারণে এই ঘাটতি মেটাতে গিয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে৷ লোডশেডিং যেখান থেকে যেভাবে ঢাকায় সচিবালয়ের বিদ্যুত্ ভবনের নয়তলার ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টার থেকে সারা দেশের বিদ্যুত্ সরবরাহ, লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও মনিটর করা হয়৷ এছাড়াও দেশে লোডশেডিং করার আরো নয়টি স্টেশন রয়েছে৷ এগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল ও রংপুরে৷ এসব কেন্দ্রের আওতায় আরো ৮০টি সাব-স্টেশন রয়েছে৷ প্রত্যেকটি সাব-স্টেশনের আওতায় লোডশেডিং করার আরো অনেক স্থান রয়েছে৷ যেমন ঢাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহ করে ডেসা, ডেসকো ও আরইবি৷ ডেসার আওতায় অনেক সাব-স্টেশন থেকেও বিদ্যুত্ সরবরাহ ও লোডশেডিং করা হয়৷ আবার এসব সাব-স্টেশনের আওতাধীন ছোট ছোট নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লোডশেডিংয়ের চূড়ান্ত রূপ দেয়৷ এমনিভাবে ডেসকো ও আরইবিও বিদ্যুতের লোডশেডিং করে৷ দেশের বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোর প্রতিদিনের বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা জানার পর চাহিদার সঙ্গে ঘাটতির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে একটি পরিকল্পনা করে বিদ্যুত্ ভবনের জাতীয় লোড ডেসপাস সেন্টার (এনএলডিসি)৷ তারপর স্থান ও গুরুত্বভেদে কোথায় কতোটুকু লোডশেডিং করা হবে তা ঠিক করা হয়৷ পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ বিদ্যুত্ ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়া হয়৷ এর বেশি কেউ ব্যবহার করলে এনএলডিসির মনিটরিং কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয়ভাবেই বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়৷

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=12785&issue=84&nav_id=11

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: