প্রক্টরের নেতৃত্বে ছাত্রছাত্রীদের পেটালেন শাবি শিক্ষকরা

প্রক্টর ড. সাজেদুল করিমের নেতৃত্বে ছাত্রছাত্রীদের পিটিয়েছেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিপন্থী শিক্ষকরা৷ গতকাল বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর এ ন্যক্কারজনক হামলা চালান তারা৷ শিক্ষকরা এ সময় অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং ছাত্রদের রাস্তায় ফেলে লাথি মারেন৷ এদিকে গতকাল ক্যাম্পাসে এসে শামীম হত্যার বিচার দাবি করেছেন চার মাস আগে পুলিশের গুলিতে নিহত শামীমের বাবা-মা৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় সচল করার দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা গকতাল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ইউনিভার্সিটির প্রধান গেট অবরোধ করে রাখে৷ বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা ড. সাজেদুল করিমের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন ভিসিপন্থী শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হন৷ তারা ছাত্রছাত্রীদের অবরোধ তুলে নিতে বলেন৷ কিন্তু ছাত্ররা অবরোধ প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করলে সহকারী প্রক্টর আশরাফ উদ্দিন, গণিত বিভাগের প্রভাষক রেজানুর রহমান শাওন, মতিয়ার রহমান ও সাইফুল ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের নজরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনসহ ভিসিপন্থী শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের ওপর চড়াও হন৷ এক পর্যায়ে তারা ছাত্রদের চড়-থাপ্পড় দেন এবং রাস্তায় ফেলে লাথি মারতে শুরু করেন৷ এ সময় শিক্ষকরা এক ছাত্রীকেও লাঞ্ছিত করে বলে জানা গেছে৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, এ সময় শিক্ষকদের মুখে গালাগালের তুবড়ি ছুটছিল৷ পরে প্রক্টর ড. সাজেদুল করিম আন্দোলনকারী তিন ছাত্রকে ধরে নিয়ে দিনভর প্রক্টর অফিসে আটকে রাখেন৷ এরা হচ্ছে পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আশরাফুল আলম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র সিদ্দিকুর মজুমদার ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের দেওয়ান জিন্নাহ৷ প্রক্টর অফিসে আটকে রেখে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্য নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে৷ তবে আটক ছাত্রদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলতে দেয়া হয়নি৷ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটক ছাত্রদের ছাড়া হয়নি৷ এদিকে শিক্ষকদের এ ন্যক্কারজনক আচরণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা৷ সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের শাবি শাখার আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন যায়যায়দিনকে বলেন, যেসব শিক্ষক ছাত্রদের ওপর হামলা করেছে তারা শিক্ষক নামধারী সন্ত্রাসী৷ তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত৷ বেলা ১২টায় ছাত্রলীগ এ ঘটনার প্রতিবাদে শহরের মদিনা মার্কেট থেকে ক্যাম্পাস অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করে৷ পুলিশ বাধা দেয়ায় বিডিআর সদর দফতরের সামনে মিছিলটি আটকে যায় এবং তারা সেখানে সমাবেশ করে৷ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কবীর, আবদুস সালাম, আসাদুজ্জামান রুমান প্রমুখ৷ সমাবেশে বক্তারা দোষী শিক্ষকদের শাস্তি দাবি করেন৷ অন্যদিকে ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা ড. সাজেদুল করিম শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ আনেন৷ তিনি দাবি করেন, ছাত্ররাই শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে৷ দোষী ছাত্রদের শাস্তি দেয়া হবে বলে তিনি জানান৷ এদিকে ক্যাম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও ছাত্রদল গতকাল দুপুরে ক্যাম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ করেছে৷ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবি জানান৷ এদিকে চার মাস আগে পুলিশের গুলিতে নিহত মোশাররফ হোসেন শামীমের মা-বাবা গতকাল ক্যাম্পাসে এসে শামীম হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন৷ বেলা পৌনে ১১টায় ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর শামীমের বাবা হেকমত আলী ও মা রওশন আরা তার হল রুমে যান এবং বিবিএ বিভাগে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করেন৷ পরে দুপুর ১ টায় শাবি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা শামীম হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও শামীমের নামে কোন হল বা রাস্তার নামকরণের দাবি জানান৷ সন্তানের কথা স্মরণ করে শামীমের মা-বাবা এ সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন৷ শামীমের বোন হোসনে আরা বেগম এবং মামা নজরুল ইসলামও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন৷ শামীমের মৃত্যুর চার মাস হয়ে গেলেও দোষীদের শাস্তি না হওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শামীমের পরিবারের কোনো খোঁজ না নেয়ার সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা৷

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=12990&issue=85&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: