প্রবাসীর মুখঃ দেওয়ান আবদুল বাসেত, সৌদি আরব

দেওয়ান আবদুল বাসেত বাইশ বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদে বসবাস করছেন সপরিবারে। তিনি সৌদি সরকারের কিং আবদুল আজিজ মেডিকেল সিটি রিয়াদে কর্মরত। কবি, ছড়াকার আবদুল বাসেত রিয়াদ থেকে প্রকাশিত মরু পলাশ ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক। সম্প্রতি তিনি ঘুরে গেলেন যুগান্তর পরবাস বিভাগ।
তার সঙ্গে কথোপকথনে অংশ নেন শাকিল মামুদ

তখন আমি ঢাকা সেনানিবাসে সিভিল এডমিনিস্ট্রেশনে কর্মরত ছিলাম। ওখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সামরিক টিম আসত। ১৯৮৪ সালে সৌদি থেকে এলো একটা সামরিক টিম। তারা অনেকের ইন্টারভিউ নিল সৌদি সরকারের বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করার জন্য। তো আমি সে ইন্টারভিউতে উৎরে যাই এবং ১৯৮৪ সালেই চাকরি নিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার সুযোগ পাই। সৌদি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে কিং আবদুল আজিজ মেডিকেল সিটিতে পোস্টিং দেওয়া হয়। আরবি জানতাম না, জানতাম ইংরেজি। হাসপাতাল কম্পাউন্ডে আমার থাকার ব্যবস্থা হয়। হাসপাতালের অফিসিয়াল সবকিছুই ইংরেজিতে। আমাকে তেমন কোনও অসুবিধায় পড়তে হল না। দেখি, আমি ছাড়া আর কোনও বাঙালি সহকমর্ী আমার সঙ্গে নেই। আমার সহকমর্ীরা বিশ্বের অন্য ৬৪টি দেশের মানুষ। শুরু থেকেই আমার সব সহকমর্ীই আন-রিক আচরণ করছিল আমার সঙ্গে। আমার মনে হয়েছে, তারা যেন দীর্ঘদিন ধরে আমাকে সহযোগিতা করার জন্যই অপেক্ষা করছিল। বলে রাখা ভালো, আমাদের অধিকাংশ সহকমর্ীই মহিলা। বর্তমানে আমরা ৪ জন বাঙালি সৌদি সরকারের স্টাফ হিসেবে কাজ করছি হাসপাতালে।
বর্তমানে তিন কন্যা ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করছি হাইয়াল ওজারা আবাসিক এলাকায়। হাইয়াল ওজারার কাছেই বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ। রিয়াদে বসবাসরত বাঙালিদের সন-ানরা এই স্কুলে পড়াশোনা করে। স্কুলটি প্রতিষ্ঠা পায় কিছু বাঙালির উদ্যোগে। সৌদি সরকারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে স্কুলটিতে কেজি থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন- পড়ানো হয়। এক হাজারের বেশি সৌদিতে বেড়ে ওঠা বাঙালি ছেলেমেয়ে এই স্কুলে পড়ছে। আমার তিন মেয়ে বৃষ্টি, নদী, বৈশাখী পড়ছে ওই স্কুলে। বৃষ্টি পড়ছে দশম শ্রেণীতে। সে ক্লাসিক সঙ্গীতে পারদশর্ী এবং সৌদির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকে। নদী ছয় জাতি ক্লাসিক নৃত্য প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়। ৬৫০ জন অভিভাবকের এক হাজারেরও বেশি ছেলেমেয়ে এই স্কুলে কেবল ইন্টারমিডিয়েট পর্যন- পড়তে পারে। ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর ছেলেমেয়েদের আর পড়ার সুযোগ থাকে না। বাবা-মায়ের চাকরির কারণে ছেলেমেয়েদের দেশেও পাঠানো সম্ভব হয় না। আমরা বাংলাদেশ সরকারের দিকে আকুল হয়ে তাকিয়ে আছি স্কুলটিকে ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যাশা নিয়ে।
আমি জব-ফ্যামেলি মেনটেনের ফাঁকে পুরো সময়টাই লেখালেখি নিয়ে সম্পূর্ণভাবে ব্যস- থাকি। ২০০২ সাল থেকে সাহিত্যবিষয়ক ওয়েব ম্যাগাজিন মরু পলাশ সম্পাদনা শুরু করি। এর আগে ১৯৮৭ সাল থেকে ‘৮৯ সাল পর্যন- হাতে লেখা মরু পলাশ প্রকাশ করতাম। হাতে লেখা মরু পলাশ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা সাহিত্যকমর্ীদের বাইপোস্টে পাঠিয়ে দিতাম। তাদের লেখাও সংগ্রহ করতাম বাইপোস্টে। আমার এই হাতের লেখা মরু পলাশে ছাপার জন্য বাংলাদেশ থেকেও লেখা যেত এবং আমি তা ছাপতাম। হাতে লিখে মরু পলাশ প্রকাশের কারণ ছিল_ সৌদি অনুমোদন, বাংলা টাইপ মেশিন বা কম্পিউটার না থাকার কারণে। তারপরও হাতে লেখা মরু পলাশ পাঁচ হাজার কপি পর্যন- ছাপাতাম। কারণ, তার পাঠকপ্রিয়তা ছিল। মরু পলাশের প্রচ্ছদ এঁকে দিতেন একজন ফিলিফিনো_ রিনিভি ইসানা।
৯১ সাল থেকে চেষ্টা করলাম প্রিন্ট করে মরু পলাশ প্রকাশ করতে। সৌদি অনুমোদনে মরু পলাশ এখন একটা ওয়েব ম্যাগাজিন। সৌদি থেকে আরও কিছু ওয়েব ম্যাগাজিন নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। আমার এ পর্যন- প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা_ গল্পের বই ৩টি, কবিতার বই ১টি, ছড়া ৭টি, আরও দু’টি গ্রন্থ সম্পাদনা করেছি প্রবাসী কবিদের কবিতা ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে।
আমি ভবিষ্যতে দেশে ফিরে আসতে চাই সপরিবারে। দেশে গড়ে তুলতে চাই মরু পলাশ গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স।
সূত্রঃ http://jugantor.com/online/news.php?id=25093&sys=3

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: