সিলেট এমসি কলেজের ৮ হাজার শিক্ষার্থী পরিবহন সমস্যা ও আবাসিক সংকটে ভুগছে

ঐতিহ্যবাহী মুরারী চাঁদ কলেজের (এমসি কলেজ) আবাসিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। এ কলেজে অধ্যয়নরত ৮ হাজার শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ৩০৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২৫০ আর ছাত্রী ৫৬। আর কলেজের ১২৯ জন শিৰকদের মধ্যে আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ২০ জন। বাকিদেরকে থাকতে হচ্ছে মেসে কিংবা ভাড়া বাড়িতে।

১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার পর ১৯২২ সালের ৩০ জুন কলেজের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক রায় বাহাদুর মুরারী চাঁদ কলেজের নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেন। যে প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয় ১০০ জন ছাত্রদের জন্য আবাসিক হোস্টেল। তৎকালীন সময়ে ৪টি বস্নক নিয়ে আবাসিক হোস্টেলের যাত্রা শুরম্ন হলেও দীর্ঘ ৮৫ বছর পর এর সাথে সংযোগ হয়েছে মাত্র ২টি বস্নক। আর ছাত্রীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ৪ তলা বিশিষ্ট একটি ছাত্রীনিবাস। ভর্তির সুযোগ থাকলেও মূলত আসবাবপত্রের অভাবে এ ভবনে ছাত্রীরা বাস করতে পারছে না।

এদিকে এমসি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক থেকে শুরম্ন করে মাষ্টার্স পর্যনত্দ কোর্স চালু থাকায় সিলেটের বাইরের অনেকেই এই কলেজে এসে অধ্যয়ন করছেন। কিন্তু কলেজের আবাসিক সুবিধা না পেয়ে থাকতে হচ্ছে ভাড়া বাসায় বা মেস নিয়ে। আর ছাত্রীদের জন্য সিলেটে উলেস্নখযোগ্য মেস না থাকার কারণে তাদেরকে চরম কষ্টে থাকতে হচ্ছে। মেসে থাকলে রয়েছে মালিকের নিয়মনীতি এবং বখাটেদের উৎপাত। অনেক ছাত্র-ছাত্রী অভিযোগ, কলেজে পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধা না থাকার কারণে তাদেরকে চরম ভোগানত্দির শিকার হতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যৰ প্রফেসর তাজিজুল ইসলাম জানান বিষয়টি নিয়ে তিনি কতর্ৃপৰের সাথে আলোচনায় বসে সিদ্ধানত্দ নেবেন।

পরিবহন সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেই

এমসি কলেজের পরিবহন সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করলেও সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই শিৰা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮ হাজার শিৰার্থীর সাথে শিৰকরা ও রয়েছেন পরিবহন সুবিধার বাইরে। গত বছর কলেজের পৰ থেকে একটি নতুন বাস ক্রয়ের সিদ্ধানত্দ নেওয়া হলেও অধ্যৰের বদলির সাথে সাথে তা ভেঙ্গে গেছে। সাধারণ শিৰার্থীদের অন্যতম গুরম্নত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান না হওয়া শিৰার্থীদের মধ্যে চরম ৰোভ বিরাজ করছে।

৮ হাজার শিৰার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র দু’টি বাস। উপহার স্বরূপ পাওয়া এই দু’টি বাসও বিভিন্ন যান্ত্রিক ক্রটির কারণে বন্ধ থাকে দিনের পর দিন। ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা তিন হাজারে দাড়ালে ১৯৮০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কলেজকে একটি বাস উপহার দেন। ১২ বছর পর ১৯৯১-৯২ সালে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আরেকটি উপাহার দিলে বাস সংখ্যা দাঁড়ায় দু’য়ে। পরবর্তীতে বছরের পর বছর ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি তাদের পরিবহন সুবিধা। আর দীর্ঘ ১১৫ বছরেও কলেজ কর্তৃপৰের উদ্যোগে ক্রয় করা হয়নি একটি বাস। অথচ প্রতিবছরই লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে পরিবহন ফি খাতে। দু’টি বাসে কলেজে যাওয়া-আসার জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা যে কিরকম কষ্ট ভোগ করে তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। ভীড়ের কারণে অনেক ছাত্র-ছাত্রী দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। অন্যদিকে সিলেট নগরীতে রয়েছে প্রচন্ড রিকশা সংকট। ঘন্টারপর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে রিক্সা পাওয়া যে কি কষ্টকর তা কারো অজানা নয়।

এদিকে কলেজের শতাধিক শিৰকের জন্যও নেই নূ্যনতম পরিবহন সুবিধা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিৰক জানান, আমাদের কথা না হয় বাদ দিলাম কিন্তু সাধারণ শিৰার্থীদের পরিবহন সুবিধার জন্য মাত্র দু’টি বাস থাকা অবশ্যই দুঃখজনক। এদিকে প্রতি বছর শিৰাথর্ীদের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা পরিবহন ফি আদায় হচ্ছে। কিন্তু এ ফান্ড থেকে আজ পর্যনত্দ কোন যানবাহন ক্রয় করা হয়নি। তাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, এ ফান্ডের টাকা যায় কোথায়।

এ প্রসঙ্গে কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যৰ প্রফেসর তাজিজুল ইসলাম জানান, তিনি নতুন এসেছেন এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেবেন। এদিকে সাধারণ শিৰার্থীরা পরিবহন সমস্যা থেকে তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপৰের প্রতি জোরালো দাবী জানিয়েছে।
সূত্রঃ http://ittefaq.com/get.php?d=06/11/12/w/n_zvkqvu

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: