সিলেটে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশংকা : পূর্বপ্রশ্তুতি নেই

ভূমিকম্পের ডেঞ্জার জোনে অবস্থিত সিলেটে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা এবং অতীত ইতিহাস বিশ্নেষণ করে এমন আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।  অথচ তা মোকাবেলায় কোনো আগাম প্রস্তুতি নেই। ফায়ার ব্রিগেডসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, ভূমিকম্প হলে তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য সিলেটে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জনবল নেই। প্রায় ৬ বছর ধরে ঝুলে আছে সিলেট ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র চালুর বিষয়টি।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুর আইআইটি ইনসদ্বিটিউটের প্রফেসর এসকে নাথ ২০০২ সালে এক গবেষণা রিপোর্টে বলেছেন, ২০১০ সালের মধ্যে ভারতের আসাম এবং বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে বড় ধরনের ভহৃমিকল্ফঙ্ হতে পারে। এ গবেষণায় তার সহযোগী ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম। প্রফেসর এসকে নাথের গবেষণা রিপোর্টের কথা উলেল্গখ করে ড. জহির সমকালকে জানান, রিপোর্টে ভহৃমিকল্ফেঙ্র বিভিল্পম্ন দিক পর্যালোচনা করে এ আশগ্ধকা ব্যক্ত করা হয়েছে। ড. জহির জানান, সিলেটে নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারণে ভহৃমিকল্ফেঙ্র ঝুঁকি আরো বাড়ছে। পহৃর্ব প্রস্ট্তুতি না থাকায় এবং ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করায় সিলেটে অধিক মাত্রার ভহৃমিকল্ফঙ্ হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভহৃমিকল্ফঙ্প্রবণ এলাকায় ১০০ বছর পরপর বড় ধরনের ভহৃমিকল্ফঙ্ হওয়ার আশগ্ধকা থাকে। এ ছাড়া কোনো এলাকায় বড় ধরনের ভহৃমিকল্ফেঙ্র আগে মৃদু ভহৃকল্ফঙ্ন হয়। এসব তথ্য-উপাত্ত বিশেল্গষণ করে দেখা যায়, সিলেট অঞ্চলে প্রায় ১০৯ বছর আগে ভয়াবহ ভহৃমিকল্ফঙ্ হয়েছিল, রিখটার স্ট্কেলে যার মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৭। এদিকে গত ৯ বছরে সিলেট অঞ্চলে আড়াই শতাধিক বার মৃদু ভহৃকল্ফঙ্ন হয়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ও এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং সিলেট ডিজাসদ্বার ফোরামের গবেষণা থেকে জানা যায়, রিখটার স্ট্কেলে ৫ থেকে ৭ মাত্রার ভহৃমিকল্ফঙ্ হলে সিলেট হবে ধ্বংসের নগরী। সিলেট নগরীর শতকরা ৯৫ ভাগ ভবনই ঝুঁকিপহৃর্ণ। শতকরা ৪ দশমিক ৪ ভাগ ভবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্টস্ন হবে। শুধু ভবন ধসে ক্ষয়ক্ষতি হবে আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকার। হতাহতের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৪০ হাজার। অথচ এ ধরনের পরিস্টি্থতি মোকাবেলার কোনো আগাম প্রস্ট্তুতি নেই। ফায়ার ব্রিগেডসহ সংশিল্গষদ্বরা জানান, ভহৃমিকল্ফঙ্-পরবর্তী সময়ে তাৎক্ষণিক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং দ্রুত উদব্দার কাজ চালানোর জন্য আধুনিক যন্পপাতি ও জনবল নেই সিলেটে। ভহৃকল্ফঙ্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হলেও যন্পপাতির অভাবে তা এখনো চালু হয়নি। শুত্রক্রবার মৃদু ভহৃমিকল্ফেঙ্র পর সিলেটবাসীর মনে অজানা আতগ্ধক দানা বেঁধেছে। আগাম প্রস্ট্তুতি গ্রহণ না করায় এবং ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড অনুসরণে সরকার কড়াকড়ি আরোপ না করায় লোকজন ক্ষুব্ধ।
সিলেট ডিজাসদ্বার ফোরামের বিভিল্পম্ন প্রকাশনা থেকে জানা যায়, ভহৃমিকল্ফেঙ্র মাত্রা অনুসারে বাংলাদেশ ৩টি ভহৃকল্ফঙ্ন বলয়ে বিভক্ত। এর মধ্যে ১ নল্ফ্বর বলয়ে রিখটার স্ট্কেলে ৭ থেকে ৯ বা তার অধিক মাত্রার ভহৃমিকল্ফঙ্ হতে পারে। আর এই ১ নল্ফ্বর বলয়েই সিলেটের অবস্ট্থান। এ বলয়ে আরো রয়েছে ময়মনসিংহ, রংপুর, উত্তর ও উত্তর-পহৃর্বাঞ্চল। ২০০১ সালের আগসদ্বে মার্কিন গবেষক অধ্যাপক রজার বিলহাম এক রিপোর্টে উলেল্গখ করেন, চলতি দশকের মধ্যেই উপমহাদেশে বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে বড় ধরনের ভহৃমিকল্ফঙ্ হবে। আর এ থেকেও আশগ্ধকা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের ১নং বলয়ে অবস্টি্থত সিলেটেই এ ধরনের ভহৃমিকল্ফঙ্ হতে পারে। সিলেট ডিজাসদ্বার ফোরাম আয়োজিত একাধিক সেমিনারে গবেষকরা আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সিলেটে বড় ধরনের ভহৃমিকল্ফঙ্ হওয়ার আশগ্ধকা ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া সিলেটে বারবার যে মৃদু ভহৃমিকল্ফঙ্ হচ্ছে তা-ও বড় ধরনের ভহৃমিকল্ফেঙ্র পহৃর্বাভাস বলে এসব সেমিনারে জানানো হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সিলেট নগরীর বন্দরবাজার, মহাজনপট্টি, লালদীঘির পাড়, তালতলা, জিন্দাবাজার, কালীঘাট, আল্ফ্বরখানা, হাউজিং এসদ্বেট, চৌহাট্টা, শাহজালাল উপশহর, সুবিদবাজারে যেসব বহুতল ভবন রয়েছে তার অধিকাংশই ঝুঁকিপহৃর্ণ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র এসএম সাইদুর রহমান ও সোয়েইব ইসলাম গবেষণা করে দেখেছেন, প্রবল মাত্রার ভহৃমিকল্ফঙ্ হলে নগরীর ১৪নং ওয়ার্ডের বন্দরবাজার, আমজাদ আলী রোড, ছড়ারপার, কালীঘাট, কামালগড়, লালদীঘির পাড়, মহাজনপট্টি, কাষ্ঠঘর এলাকার ৫৭১টি ভবনের মধ্যে ৩৯৯টি ধসে পড়বে।
সূত্রঃ http://www.shamokal.com/details.php?nid=42388

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: