সুনামগঞ্জে জলমহাল নিয়ে বিএনপি নেতার স্বেচ্ছাচারিতা

হাইকোর্টে সঠিক তথ্য না দিয়ে, জলমহাল নীতিমালা উপেক্ষা করে এবং উপযুক্ত রাজস্ব প্রদান ছাড়াই সুনামগঞ্জের একটি বৃহৎ জলমহালের মাছ আহরণ শুরু করেছে বিএনপিদলীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট জলমহাল থেকে সরকার বিশাল অংকের রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
হাওর পাড়ের লোকজনসহ সংশ্লিষ্ট অফিসের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বৃহৎ জলমহাল সুনুয়া-বনুয়া খরছার হাওর বিগত সরকারের সময় ৩ বছরের জন্য রুহি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা অর্থাৎ ভ্যাট ইনকাম ট্যাক্সসহ ১২ লাখ ২৭ হাজার ২০০ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। ইজারা নেওয়ার পর জলমহাল নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রথম বছরই মাছ আহরণ করে ইজারাদাররা। মাছ ধরার মৌসুমে জলমহালের সীমানা নিয়ে হাওর পাড়ের নলুয়া-নোয়াগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে ইজারাদারদের পক্ষে সংঘর্ষ-সংঘাত চলে আসছিল। এ নিয়ে পরে মামলা-মোকদ্দমাও হয়। এ সময় ইজারাদারদের দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ আসামি ধরতে গেলে নলুয়া নোয়াগাঁওবাসীর সঙ্গে গভীর রাতে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত এবং পুলিশসহ কমপক্ষে ২০০ গ্রামবাসী আহত হয়। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে পুলিশ হামলা ও খুনের মামলাও দায়ের হয়।
রাজস্ব অফিসের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এ বছর জুনে ইজারাদারদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে বলা হয়, জলমহালের দখল ইজারাদারদের যথাসময়ে না দিয়ে দেরিতে দেওয়ায় আশপাশের মানুষ মাছ ধরে নিয়ে গেছে। এ কারণে ইজারাদাররা ক্ষতিগ্রস্টস্ন হয়েছে বলে উল্ক্নেখ করা হয়। পরে হাইকোর্ট এক আদেশে এ বছর জলমহালের ৫০ শতাংশ খাজনা পরিশোধের আদেশ জারি করেন। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী জেলা রাজস্ট্ব অফিস খাজনা গ্রহণ করে। সহৃত্র জানায়, এবারই আরেকটি ইজারাদার পক্ষ দরখাস্টস্ন করে জানিয়েছে, তাদের শুধু এবারের জন্য ওই জলমহালে মাছ আহরণ করতে দেওয়া হলে তারা ১৫ লাখ টাকা রাজস্ট্ব প্রদান করবে। সহৃত্র মতে, প্রস্টস্নাবিত এ রাজস্ট্বও এ জলমহালের জন্য যথেষদ্ব নয়। জেলা রাজস্ট্ব অফিসের নাজির নহৃরুল আমিন জানান, তারা যথাসময়ে ইজারাদারদের জলমহালের দখল দিয়েছেন। এছাড়াও জলমহাল নীতিমালা অনুযায়ী প্রথম বছর মাছ আহরণ করাও নিষেধ রয়েছে। তিনি বলেন, ইজারাদাররা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়েরের সময় সত্য গোপন করেছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ট্ব) কুংকাম নীলমণি সিং জানান, রাজস্ট্ব না দিয়ে কিংবা রাজস্ট্ব ফাঁকি দিয়ে কোনো জলমহালেই যাতে কেউ মাছ আহরণ না করতে পারে এজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশি্নষদ্বদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুনুয়া-বনুয়া জলমহালের ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্ট্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, কেউ-ই রাজস্ট্ব ফাঁকির সুযোগ পাবে না।
বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান ফুল মিয়া বলেছেন, তারা সরকারকে রাজস্ট্ব বঞ্চিত করছেন_ এ ধরনের বক্তব্য অবানস্নর। বরং দেরিতে জলমহালের দখল পাওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্টস্ন হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী খাজনা পরিশোধ করেছেন তারা। তিনি বলেন, গত বছর মাছ ধরার মৌসুমে যারা পুলিশ খুন করেছে তারাই এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে সংশি্নষদ্বদের বিভ্রানস্ন করছে। তিনি বলেন, তারা এখনো জলমহালে মাছ আহরণের কোনো
উদ্যোগ নেননি।

সূত্রঃ http://www.shamokal.com/details.php?nid=43157 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: