সিলেটে ছাত্রদল নেতা নিহত

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে তিন ঘণ্টার সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা ফয়েজ আহমদ আনু (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন৷ আহত হয়েছেন বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোজাহিদ আলীসহ ৩৫ জন৷
নিহত আনু বিশ্বনাথের দশঘর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি৷ পুলিশ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আওয়ামী লীগের তিন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে৷ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফরিদ আহমদ (১৮) ও আবদুল আহাদ (২৬) নামে তাদের দুই কর্মীকে কিডন্যাপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে৷
বিশ্বনাথ বিএনপি এ হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমানকে সরাসরি দায়ী করেছে৷ তারা বলেছে, মুহিবুর রহমান সিলেট থেকে ভাড়াটিয়া ক্যাডার বাহিনী এনে এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছেন৷
সিলেটের পুলিশ সুপার আবদুর রহিম বিশ্বনাথে দু’পক্ষের গোলাগুলিতে আহত একজন ওসমানী হাসপাতালে মারা যাওয়ার কথা স্বীকার করেন৷ যায়যায়দিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে৷
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবরোধের প্রতিবাদে বিশ্বনাথ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিশ্বনাথ-রামপাশা রোডে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমানের বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় কর্মসূচি পালন করছিল৷ এ কারণে মুহিবুর রহমান বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন৷ খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুহিবুর রহমানের সমর্থকরা বিশ্বনাথের আমতৈল বাজার থেকে দুটি ট্রাকে ঘটনাস্থলে এলে দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া৷ এ সময় ১৪ দল কর্মীরা মুহিবুর রহমানের বাসার ভেতরে ঢুকে পড়ে৷ আর বিএনপি নেতাকর্মীরা রাস্তায় অবস্থান অব্যাহত রাখে৷ দু’পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে থেকে প্রতিপক্ষের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে৷
এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়৷ ৮-১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়৷ এতে ছাত্রদল নেতা ফয়েজ আহমদ আনু গুলিবিদ্ধ হন৷ আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তিনি মারা যান৷ সংঘর্ষে দু’পক্ষের আরো ৩৫ নেতাকর্মী আহত হয়৷
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ও ফাকা গুলি ছোড়ে৷ অবশ্য সিলেটের এসপি টিয়ারগ্যাস ও ফাকা গুলিবর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করেন৷ তিন ঘণ্টা পর বেলা দেড়টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে৷ এলাকায় দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷
বিএনপি সভাপতি ছাড়াও সংঘর্ষে আহত অন্যরা হলেন যুবদল নেতা রাসেল আহমদ, ছাত্রদল নেতা জুয়েল আহমদসহ কমপক্ষে আরো ২৫ জন৷ তাদের সিলেট ওসমানী হাসপাতাল, নগরীর বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে৷ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রইছ উদ্দিন (৪০), হেলাল মিয়া (২২), রফিক মিয়া (৩০), ফজলু মিয়া (৩৬), হেলাল উদ্দিন (২২) ও শ্যামলসহ (৩০) তাদের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে৷
সংঘর্ষের পরপর পুলিশ মুহিবুর রহমানের বাড়ি সার্চ করে আজমল আলী (৩০), সুজন মিয়া (২৭) ও ফরিদ উদ্দিন (২৫) নামে তিন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে৷ ৠাবের একটি টহল দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে৷

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=21869&issue=158&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: