দুই হেভিওয়েটের লড়াই সিলেট-১ আসন

দু’জনই ভিআইপি প্রার্থী৷ একজন সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, অন্যজন সাবেক সচিব ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত৷ একজন চারদলীয় আর অন্যজন ১৪ দলীয় জোটের মনোনয়ন পাচ্ছেন৷ তারা লড়বেন মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে৷ আসনটি ধরে রাখা দুই প্রার্থীর জন্যই প্রেস্টিজ ইসু৷ তাই মাঠ পর্যায়ে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চলছে পুরোদমে৷
সিলেট মহানগরী, সিলেট সদর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন৷ জনশ্রুতি রয়েছে, এ আসনে যে দল বা জোটের প্রার্থী জয়লাভ করেন সেই দল বা জোট সরকার গঠন করে৷ ১৯৯১ সালের নির্বাচন থেকে এ বিষয়টি প্রমাণিত হচ্ছে৷
১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে একমাত্র এ আসনে জয়লাভ করেন বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবদুল মালিক৷ তখন সরকার গঠন করে বিএনপি৷ ১৯৯৬ সালে এ আসন থেকে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী (পরে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন)৷ তখন সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ৷ ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটির সিনিয়র সদস্য এম সাইফুর রহমান৷ ক্ষমতায় আসে চারদলীয় জোট সরকার৷
এ আসনে প্রার্থী সিলেকশনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো খুবই কৌশলী ভূমিকা পালন করে৷ ২০০১ সালে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র এক দিন আগে মৃত্যুবরণ করেন এমপি হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী৷ তার অবর্তমানে এ আসনের প্রার্থী সিলেকশন নিয়ে বেকায়দায় পড়ে আওয়ামী লীগ৷ পরে সাবেক সচিব ও এরশাদ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে দলে ভেড়ানো হয়৷ ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন৷ চার দলের প্রার্থী এম সাইফুর রহমানের কাছে তিনি প্রায় ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান৷
মুহিতের পাশাপাশি এবার এ আসন থেকে ১৪ দলের মনোনয়ন লাভের চেষ্টা চালাচ্ছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান৷ তবে মনোনয়ন দৌড়ে মুহিতই এগিয়ে রয়েছেন বলে জানায় দলের একটি সূত্র৷ এ আসনে বিএনপির সিনিয়র নেতা এম সাইফুর রহমান চার দলের একক প্রার্থী৷
গত নির্বাচনে তিনি এ আসন ছাড়াও মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন৷ পরে সিলেট-১ আসন রেখে অন্য আসনটি ছেড়ে দেন৷ সেখানে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তার বড় ছেলে এম নাসের রহমান এমপি হন৷ সাইফুর রহমানের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এবার শুধু সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করবেন৷
নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে নগরীর হাউজিং এস্টেটে তার জন্য বাসা ভাড়া নেয়া হয়েছে৷ নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য সুবিশাল একটি অফিসও ভাড়া নেয়া হয়েছে৷ গঠন করা হয়েছে নির্বাচনী স্টিয়ারিং কমিটি৷ এ কমিটির তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হচ্ছে৷ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে সাইফুর রহমান গত ১ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জে গণসংযোগ করেন৷ সেখানে তিনি এক মহিলা সমাবেশেও বক্তব্য রাখেন৷
এদিকে ১৪ দল প্রার্থী এ এম এ মুহিতের সমর্থনে নগরীর দেয়ালে দেয়ালে রঙিন পোস্টার সাটানো হয়েছে৷ তার পক্ষ থেকে সিলেট নগরীর হাফিজ কমপ্লেক্স, আম্বরখানা ও কোম্পানীগঞ্জে তিনটি পৃথক অফিস স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে৷ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবারের নির্বাচনে সাইফুর রহমানের কিছুটা অসুবিধা সৃষ্টি করলেও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ সিলেটের ব্যাপক উন্নয়নে তার অবদানের কথা স্বীকার করেন৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=22364&issue=163&nav_id=5

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: