সিলেট শহরে প্রতিদিন তিন লাখ টাকার ফুল বিকিকিনি

শহরের ১০০টিরও বেশি ফুলের দোকানে এখন প্রতিদিন অন্তত তিন লাখ টাকার ফুল কেনাবেচা হচ্ছে৷ ফুলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখানে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুলের চাষ৷ এর ফলে অনেক বেকার যুবকই এখন প্রবাসে যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে ফুল ব্যবসার দিকে ঝুকে পড়ছেন৷ বিডিনিউজ৷
সিলেটের প্রধান দুই ফুল ব্যবসায়ী মানিক মিয়া ও শফিকুর রহমান বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন৷ তারা এখন নতুন উদ্যোক্তাদের ফুল চাষে প্রেরণা যোগাচ্ছেন৷
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর আগে বিভাগীয় এ শহরটিতে ফুলের ব্যবসা শুরু হয়েছিল৷ তবে ১৯৯৯ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের উত্পাদন শুরু হয়৷ ১৯৯০ সালে শহরে মাত্র একটি ফুলের দোকান ছিল৷ সেখানে সেই সংখ্যা এখন বেড়ে হয়েছে ১০০ এরও বেশি৷ ফুল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়াই প্রতিদিন গড়ে এসব দোকানে কমপক্ষে তিন লাখ টাকার ফুল বিক্রি হয়৷ তবে বিশেষ অনুষ্ঠানের সময় বিক্রি পাচ থেকে ছয় লাখ টাকায় গিয়ে দাড়ায়৷
সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, শহরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, লামাবাজার, আম্বরখানা, দর্শন দেউড়ি, নয়াসড়ক, নাইওরপুল, মিরাবাজার, শিবগঞ্জ, মিরবক্সটুলা, রিকাবী বাজার ও তেলিহাওর এলাকায় বিভিন্ন ফুলের দোকানে সব সময়ই ক্রেতাদের ভিড় লেগে আছে৷
শুক্রবার মানিক মিয়ার বাড়িতে যাওয়ার পর তিনি তার বাগান করার স্বপ্ন ও ব্যবসায় জড়িয়ে যাওয়ার গল্প শোনান৷ তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালে আমার গ্রামে ১০ বিঘা টিলাভূমির ওপর ফুল বাগান তৈরি করেছিলাম৷ প্রথমদিকে শখ করে ফুল চাষ করলেও পরে সিলেটের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতে শুরু করি৷ গোলাপ, গাদা গাজরাসহ নানা ধরনের ফুল বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়েও প্রতিমাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়৷
শহরে অন্য সফল ফুল ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান বলেন, ২০০০ সালে শহরের পাঠানটুলা এলাকায় দুই বিঘা জমিতে একটি গোলাপের বাগান করে সফল হয়েছি৷ এরপর ২০০৪ সালে সদর উপজেলার লাউগুল গ্রামে পাচ বিঘা জমিতে আরো একটি ফুল বাগান করেছি৷
মানিক ও শফিক অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, সিলেটের টিলাভূমি শুধু চা বা কমলা চাষের জন্যই উপযোগী এ কথা ঠিক নয়৷ বরং এ এলাকার অসংখ্য টিলাভূমি গোলাপ চাষের জন্যও উপযোগী৷ যার প্রমাণ আমরা নিজেরাই৷ এ ক্ষেত্রে প্রবাসীরা তাদের অর্থ বিনিয়োগ করলে তা একটি শিল্প বিকশিত হতে পারে৷
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ফজলই ইলাহী বলেন, সিলেটের টিলাভূমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধু গোলাপই নয়, গাদা বা রজনীগন্ধাও চাষ করা সম্ভব৷
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, সিলেটের প্রথম ফুলের দোকান মালঞ্চ স্থাপিত হয় ১৯৯০ সালে চৌহাট্টায়৷ ফুল ব্যবসায়ীদের কাছে গুরুভাই হিসেবে পরিচিত সৈয়দ আবদুল আউয়াল শরীয়তপুর থেকে এখানে এসে ফুলের এ ব্যবসা শুরু করেন৷ ১৯৯৩ সালে একই এলাকায় গড়ে ওঠে মাধবী নামে আরেকটি ফুলের দোকান৷ এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ১৯৯৯ সালের পরে নগরীতে একের পর এক ফুলের দোকান গড়ে উঠতে থাকে৷
ব্যবসায়ীরা আরো জানান, আগে জেলার বাইরের লোক এখানে এসে ফুলের ব্যবসা করলেও বর্তমানে স্থানীয় লোকরাও এ ব্যবসার দিকে ঝুকছে৷ নগরীর আম্বরখানা, নাইওরপুল, মিরবক্সটুলা ও শিবগঞ্জে গড়ে ওঠা অধিকাংশ ফুলের দোকানের মালিক হচ্ছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা যাদের অধিকাংশই যুবক৷
শহরের জিন্দাবাজারে অবস্থিত ফুলের দোকান করবীর মালিক সৈয়দ মোশারফ আলী তুহিন জানান, আমি ১৯৯৪ সালে যখন যশোর থেকে সিলেটে এসে ব্যবসা শুরু করি তখন স্থানীয় কোনো ব্যবসায়ী ফুলের ব্যবসায় জড়িত ছিল না৷ ব্যবসা লাভজনক হয়ে ওঠায় পরবর্তী সময়ে অনেকেই এ ব্যবসা শুরু করেন৷ যাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা ছেড়ে ফুলের ব্যবসা শুরু করেছে৷
ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে শহরে রজনীগন্ধা, গোলাপ ও গাদা ফুলের প্রতিদিনের চাহিদা প্রায় ৯০ হাজার৷ কিন্তু স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত ফুল এ চাহিদার মাত্র এক-দশমাংশ পূরণ করতে পারে৷ এছাড়া বিয়ে, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় ফুলের চাহিদা আরো বেড়ে যায়৷ ফলে জেলার বাইরে থেকে ফুল এনে এ চাহিদা মেটাতে হচ্ছে৷ যার সিংহভাগই সড়ক বা রেলপথে ঢাকা থেকে সিলেটে আমদানি করা হচ্ছে৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=25177&issue=186&nav_id=2

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: