মার্চে বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড উত্পাদনে যাচ্ছে জাতীয় গৃডে সরবরাহ করা হবে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট

আগামী মার্চে উত্পাদনে যাচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড৷ প্রাথমিকভাবে এ গ্যাস কূপ থেকে প্রতিদিন দুইশ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্পাদন হবে৷ পরে গ্যাস উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ানো হবে৷ বিবিয়ানায় গ্যাস উত্তোলনের দায়িত্বে নিয়োজিত আমেরিকান কম্পানি শেভরনের চেয়ারম্যান মি. অ্যান্ড্রু এল ফাউথ্রপ এ তথ্য জানিয়েছেন৷
শেভরনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ২০০৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ গ্যাস ফিল্ডে উত্পাদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়৷ কর্মকর্তাটি আরো জানান, এখান থেকে উত্পাদিত দুইশ’ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস ট্রান্সমিশন কম্পানি লিমিটেডে (জিটিসিএল) সরবরাহ করা হবে৷
সূত্র জানায়, গ্যাস উত্পাদনের জন্য এরই মধ্যে কয়েকটি কূপ রেডি করা হয়েছে৷ জাতীয় গৃডে সরবরাহের জন্য ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনও নির্মাণ করা হয়েছে৷ বর্তমানে প্রসেস প্লান্টের কাজ চলছে৷ মার্চের প্রথম সপ্তাহেই গ্যাস উত্তোলন করা যাবে বলে শেভরন কর্তৃপক্ষ আশা করছে৷
এদিকে জ্বালানি উপদেষ্টা তপন চৌধুরী গ্যাস কূপের অগ্রগতি দেখতে গত শুক্রবার আকস্মিক বিবিয়ানা গ্যাস কূপ পরিদর্শন করেন৷ তিনি গ্যাস কূপের সাউথ প্যাডের ডৃলিং কাজ সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন৷ পরে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন৷ মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, এ কূপ চালু হলে দেশে আর গ্যাস সঙ্কট থাকবে না৷ পেট্রবাংলা এবং শেভরনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন৷
২০০৫ সালে শেভরন আরেক আমেরিকান কম্পানি ইউনোকলের কাছ থেকে একটি চুক্তির মাধ্যমে বিবিয়ানাসহ অন্যান্য গ্যাস ফিল্ডের দায়িত্ব বুঝে নেয়৷ এ চুক্তির আওতায় সে সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ইউনোকলের সব স্থাপনা শেভরনের কাছে হস্তান্তর করা হয়৷
এর আগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী আমেরিকান কম্পানি অক্সিডেন্টাল ১৯৯৫ সালে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির আওতায় বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ১২, ১৩ ও ১৪ নাম্বার ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দায়িত্ব পায়৷ পরে ইউনোকলের কাছে পুরো দায়িত্ব হস্তান্তর করে অক্সিডেন্টাল৷
নবীগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল দিঘলবাক ইউনিয়নের বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ১৯৯৭ সালে অক্সিডেন্টাল বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রের কাজ শুরু করে৷ পরের বছরেই তারা সফলভাবে দটি অনুসন্ধান কূপ খনন করে৷ বাংলাদেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় গ্যাস ফিল্ড হিসেবে বিবেচিত বিবিয়ানার নর্থ প্যাড এলাকায় এরপর আরো চারটি গ্যাস কূপ খনন করা হয়৷ একই সঙ্গে এর আগে খনন করা অনুসন্ধান কূপ দুটিকে উত্পাদন কূপে রূপান্তর করা হয়৷ বর্তমানে সেখানকার ছয়টি কূপই উত্পাদন উপযোগী বলে কম্পানি সূত্র জানায়৷ আরো একটি কূপ খননের কথা রয়েছে৷ কূপ খননের দায়িত্বে রয়েছে জার্মান কম্পানি ডয়টেক৷
বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্যাডে কূপ খনন, গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন ও গ্যাস প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপনসহ সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২৩ কোটি ডলার ব্যয় প্রাথমিকভাবে ধরা হয়েছে৷ তবে শেষ পর্যন্ত এ পরিমাণ ২৫ কোটি ডলারে দাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷
প্রকল্পের আওতায় বিবিয়ানার সাউথ প্যাড এলাকায় প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণের লক্ষ্যে একটি প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে৷ এরপরও সাউথ প্যাডে আরো পাচটি গ্যাস কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে বলে কম্পানির কর্মকর্তারা জানান৷
সূত্র জানায়, উত্পাদন শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে বিবিয়ানার নর্থ প্যাড থেকে জাতীয় গ্যাস গৃডে প্রতিদিন দুইশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করার কথা রয়েছে৷ পরে পেট্রবাংলার চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানো হবে৷ ২০০৮ সালের মধ্যে বিবিয়ানা থেকে জাতীয় গৃডে সরবরাহ ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হবে বলে জানা গেছে৷ বিবিয়ানা থেকে জাতীয় গৃডে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে হবিগঞ্জের মুছাই পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপনের কাজও শেষ হয়েছে৷
বর্তমানে শেভরন মৌলভীবাজার গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রতিদিন জাতীয় গৃডে ৮০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রায় দেড়শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে৷
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিবিয়ানা হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র৷ সেখানে কার্যক্রম চালাতে মার্কিন কম্পানি অক্সিডেন্টাল ও পরে ইউনোকল নানা বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়৷ বিশেষ করে জমি অধিগ্রহণ, মূল্য নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণ পরিশোধ সম্পর্কিত জটিলতার কারণে তাদের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় একাধিকবার৷ এছাড়া স্থানীয় লোকজন এলাকায় গ্যাস সরবরাহসহ অন্যান্য দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন গড়ে তুলে৷ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে কম্পানিটি একাধিকবার এসব আন্দোলন দমাতে সক্ষম হলেও কিছুদিন পরপরই স্থানীয়রা বিভিন্ন ব্যানারে কর্মসূচি শুরু করে৷ তবে স্থানীয় প্রভাবশালী অনেকেই বিভিন্নভাবে ছোট-বড় ঠিকাদারি ও সাপ্লাইয়ের কাজের সঙ্গে জড়িত৷ ফলে আন্দোলন শুরুর কিছুদিনের মধ্যে তা আবার স্থিমিত হয়ে পড়ে বলে কয়েকজন এলাকাবাসী অভিযোগ করেন৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=27496&issue=206&nav_id=7

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: