সিলেটে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি বছরই দ্বিগুণ হারে বাড়ছে

ঘাতকব্যাধি এইডস বিস্তারের ক্ষেত্রে ঝুকিপূর্ণ অঞ্চল হয়ে উঠছে সিলেট৷ এ অঞ্চলে প্রতি বছর এইডস আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হারে বাড়ছে৷ স্থানীয় ডাক্তারদের হিসাব মতে, সিলেটে এখন আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত দেড় শতাধিক৷ অবশ্য বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের মতে, এ সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে৷
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেটের ওসমানী মেডিকাল কলেজের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে৷
সিলেট প্রবাসীবহুল এবং এর তিনদিকে এইডস ঝুকিপূর্ণ ইনডিয়ার অবস্থান, সর্বোপরি সচেতনতার অভাব এ অবস্থার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন৷
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৯১ সাল থেকে চলতি
মাস পর্যন্ত এইচআইভি ভাইরাস বহনকারী ১৭০ ব্যক্তি সিলেটের স্থানীয় ডাক্তারদের কাছে আসেন৷ এদের বেশির ভাগই মিডল ইস্ট প্রবাসী পুরুষ শ্রমিক৷ এদের মধ্যে গত এক বছরে মারা গেছেন ১৬ জন৷
একটি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি এইডস আক্রান্ত রয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জে৷ এরপর আসে সিলেট সদর, বিয়ানীবাজার ও কানাইঘাট এবং মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও কুলাউড়ার নাম৷ এইডসের ঝুকি বেড়ে যাওয়ায় সিলেট অঞ্চলে বর্তমানে ১০টির বেশি বেসরকারি সংগঠন এটা নিয়ে কাজ করছে৷
আশার আলো সোসাইটি নামে একটি সংগঠন সিলেটে এইচআইভি আক্রান্ত ৮২ ব্যক্তিকে নিয়মিত চিকিত্সা ও অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে৷ পাশাপাশি সিলেটে আরো এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান করছে৷ এ সংগঠনের দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, তারা ২০০৪ সালে ২৩ জন আক্রান্তের সন্ধান পেয়েছিল৷ ২০০৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৮ জন৷ ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে সিলেটে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ায় ৭৭-এ৷ গত বছর এ সংখ্যা দাড়িয়েছে ৮৫৷ এর মধ্যে মহিলা রয়েছেন ২২ জন৷
সংগঠনের কর্মকর্তারা জানান, মিডল ইস্টে আক্রান্ত হয়ে দেশে আসা পুরুষদের মাধ্যমে সিলেটে এইডস বেশি ছড়াচ্ছে৷ স্বামীর মাধ্যমে আক্রান্ত হচ্ছেন স্ত্রী৷ অনেক ক্ষেত্রেই আক্রান্ত পুরুষ বিষয়টি গোপন রাখেন তার স্ত্রীর কাছে৷ এছাড়া ডাক্তারের কাছেও যান না তারা৷ বিশেষজ্ঞরা জানান, সিলেট অঞ্চলের চার জেলার অন্তত ২০ লাখ লোক প্রবাসে থাকেন৷ এদের বেশির ভাগই মিডল ইস্টে কর্মরত৷ এছাড়া সিলেট অঞ্চলের তিনদিকেই রয়েছে ইনডিয়া৷ এইডস রোগীবহুল ইনডিয়ার মুম্বাই, মাদ্রাজ, মনিপুরসহ অন্যান্য রাজ্যে সিলেট অঞ্চলের অসংখ্য ব্যবসায়ী নিয়মিত যাতায়াত করেন৷
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০০২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে সব মিলে ২৪৮ জন এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তি ছিল৷ এদের মধ্যে ৪৩ জনই ছিল সিলেট অঞ্চলের৷ এর মধ্যে সিলেট জেলারই ছিল ৪০ জন৷ অন্য দু’জন মৌলভীবাজার এবং একজন হবিগঞ্জ জেলার৷
ওসমানী মেডিকাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান শিব্বির আহমদ শিবলী বলেন, সিলেটের পরিস্থিতি ভয়াবহ৷ একই হসপিটালের একাধিক ডাক্তার জানান, সিলেটে অন্তত ১৬০ জন এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি তাদের শরণাপন্ন হয়েছেন৷ কিন্তু বেশির ভাগই সামাজিক ও ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতার কারণে ডাক্তারের শরণাপন্ন হচ্ছেন না৷
এইডস বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির ব্যাপারে সরকারি কোনো কর্মসূচি সিলেটে চোখেই পড়ে না৷ এমনকি এইডস দিবসেও এখানে সরকারি কোনো কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে না৷ সিলেটের সিভিল সার্জন আবু জাফর মাহবুব আহমদ বলেন, এ অবস্থায় আমরা সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় এইডস/এসটিডি কর্মসূচির আওতায় সিলেটে এইডস রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সভা-সেমিনারের পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি৷
আশার আলো সোসাইটির প্রকল্প সমন্বয়ক সামছুল আলম সিলেটে এইডস পরিস্থিতি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলার তুলনায় সিলেটে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা খুব বেশি৷ তিনি জানান, আক্রান্তের বেশির ভাগই মহিলা৷ একই সঙ্গে গত এক বছরে অনেক শিশুও এইডস আক্রান্ত হয়েছে৷ এইডস আক্রান্ত হওয়ার বহুদিন পরও অনেকেই ডাক্তারের কাছে যান না৷ বিডিনিউজ৷

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=27384&issue=205&nav_id=7

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: