সিলেটের হাসান মার্কেট নির্মাণের নামে কোটি টাকার ঘাপলা

দশ বছরে হাসান মার্কেট আধুনিকীকরণের কাজ শুরু না হলেও ৪ তলা পর্যনত্দ দোকানের কোটা বিক্রি করে কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। শুধুমাত্র নকশা ও কাগজ দেখিয়ে এই বিশাল অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে অনিয়ম ও দুনর্ীতির আশ্রয় নিয়েছে করপোরেশন। আর এ কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে মেয়রের নেতৃত্বে থাকা করপোরেশনের ‘সর্বগ্রাসী সিন্ডিকেট।’
মার্কেট নির্মাণের লক্ষ্যে করপোরেশন একটি আহ্বায়ক কমিটি করে দিলেও এখন আহ্বায়ক কমিটি, মেয়র এবং ব্যবসায়ীদের ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে মার্কেট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আটকে আছে। কবে নাগাদ কাজ শুর\” হবে তা যেমন জানেন না ব্যবসায়ীরা তেমনি সে তথ্যটিও নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। অথচ প্রতিবছর করপোরেশনের বাজেটে বিশাল অঙ্কের টাকা বরাদ্দ করা হলেও সে টাকা কোন অবস্থায় আছে সে বিষয়টিও আড়াল করে রেখেছেন নগর কতর্ৃপক্ষ।
একটি বিশ্বসত্দ সূত্র জানিয়েছে, করপোরেশনের বাজেট থেকে বরাদ্দ নিয়ে রাখা এবং নকশা দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া কোটি টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে। ফলে মার্কেট নির্মাণ কাজ শুর\” করা হচ্ছে না।
অবশ্য মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বললেন, মার্কেটের জেনুইন ব্যবসায়ীরা দোকান পাবেন। দোকান পেতে হলেও তো টাকা দিতে হবে। তিনি সময় হলে মার্কেট নির্মাণ কাজ শুর\” হবে এমন মনত্দব্য করে বলেন, এখন মার্কেটের ডিজাইন করা হচ্ছে। কাগজপত্র রেডি হচ্ছে।
এদিকে হাসান মার্কেটে দোকানের জন্য ইতমধ্যে যারা টাকা দিয়েছেন তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে লালদীঘিরপাড় নিউমার্কেট নির্মাণে করপোরেশন (সাবেক পৌরসভা) সীমাহীন দুনর্ীতি করেছিল শেষ পর্যনত্দ হাসান মার্কেটে সে অবস্থা হয় কি-না এ নিয়ে চিনত্দিত তারা। কোটি টাকা খরচ করে লালদীঘিরপারে যে বিশাল মার্কেট বানানো হয়েছে তাতে ব্যবসাতো দূরের কথা দিনের বেলা মার্কেটের ভেতরে মানুষ ঢুকতে ভয় পায়। মার্কেটের নামে এ প্রহসন-প্রতারণা শেষ পর্যনত্দ হাসান মার্কেট পর্যনত্দ গড়ায় কি-না এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নাগরিকদের মাঝে।
নগরীর গুর\”ত্বপূর্ণ ও ব্যসত্দতম স্থান বন্দরবাজারে সরকারি ভূমির ওপর ১৯৫৯ সালে নির্মাণ করা হয় মার্কেটটি। জায়গাটিতে ছিল গোবিন্দ পার্ক। প্রতিষ্ঠার সময়ও মার্কেট নির্মাণে বড়ো ধরনের দুনর্ীতের অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নামে মার্কেটটির নামকরণ হয় হাসান মার্কেট।
১৯৬৫ সালে প্রায় সোয়া দুইশ ব্যবসায়ীকে তাদের দোকানকোঠা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে নিম্নবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্তদের সবচে জনপ্রিয় মার্কেটে পরিণত হয় হাসান মার্কেটটি। দীর্ঘ ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসায়ীরা এখানে ব্যবসা করে আসলেও মার্কেটে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
নগরীর প্রাণকেন্দ্রে মার্কেটটির অবস্থান হওয়ায় এটিকে যানজটের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কারণ হিসেবে দেখানো হয় মার্কেটের নিজস্ব পার্কিং স্থান না থাকা। ফলে মার্কেটে আগত ক্রেতারা তাদের যানবাহন যত্রতত্র পার্কিং করে থাকেন। এছাড়া হাসান মার্কেটের সঙ্গেই রয়েছে সেন্ট্রাল মার্কেট।
সব মিলে এখানে দোকানের সংখ্যা ৫শর বেশি।
১৯৯৭ সালে তৎকালীন পৌর কর্তৃপক্ষ মার্কেটটি ভেঙে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে পৌর ও নগর কতর্ৃপক্ষের প্রায় দুডজন বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধানত্দ হয় চারতলা আন্ডারগ্রাউন্ড বিহীন মার্কেট নির্মাণের। এ জন্য দুপক্ষের মধ্যে ১৪ দফা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। এ বিষয়টি মনিটরিং করার জন্য কমিশনার আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকীকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পংকী নগর কতর্ৃপক্ষকে একটি রিপোর্টও দেন। তিনি প্রসত্দাব করেন মার্কেটটি ১১ তলা নির্মাণ করা প্রয়োজন এবং অবশ্যই আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং রাখতে হবে।
তখনই বাদ সাধেন হাসান মার্কেটের দোকান মালিকরা। আর দোকান মালিকদের পক্ষে এবং এ প্রসত্দাবের বিপক্ষে অবস্থান নেন বর্তমান মেয়রও। ফলে মার্কেট নির্মাণ বিষয়টি এ পর্যনত্দ আটকে যায়।
মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেছেন, নতুন মার্কেট নির্মাণ করতে তারা ইতিমধ্যে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রথম কিসত্দি ২০/২৫ থেকে ৩০/৩৫ হাজার টাকা করপোরেশনের অনুকূলে জমা দিয়েছেন। কাজ শুর\” হলে বাকি টাকা দেবেন, কিন\’ ১১তলা আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট নির্মাণে যে ব্যয় হবে সেটা তারা বহন করতে নারাজ।
এ প্রসঙ্গে তারা বলেন, আমরা আন্ডারগ্রাউন্ড করার বিপক্ষে নই, তবে এ খরচ সিটি করপোরেশনকেই বহন করতে হবে। অপরদিকে কমিশনার আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী বলেন, আন্ডারগ্রাউন্ড ছাড়া নগরীর প্রাণকেন্দ্রে মার্কেট নির্মাণ হোক তা আমি চাই না। তাই যদি নগর কতর্ৃপক্ষ আমার প্রসত্দাব মানেন আমি তাদের সঙ্গে আছি নতুবা এর দায় আমি নিতে রাজি নই।
অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুবছর পরে নগর কতর্ৃপক্ষের সঙ্গে মার্কেটের বর্তমান কমিটির এক বৈঠকে ব্যবসায়ী ১১তলা মার্কেট নির্মাণের পক্ষে মত দিয়েছেন এবং তারা বলেছেন ৪তলা পর্যনত্দ নির্মাণ খরচ তারা বহন করবেন এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ও বহুতলের বর্ধিত অংশের নির্মাণ খরচ করপোরেশন বহন করবে। হাসান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি রইছ আলী এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রঃ http://bhorerkagoj.net/online/news.php?id=42442&sys=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: