সিলেট সমবায় অফিসে সীমাহীন অনিয়ম

সিলেট জেলা সমবায় অফিস আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এই অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার সহযোগিতায় সমিতিগুলোতে এমন কোনো অনিয়ম নেই যা হয় না।  সদ্যবিদায়ী জেলা সমবায় অফিসার এসএম তারিকুজ্জামান ও সিলেট সদর থানা সমবায় অফিসার সজল চক্রবর্তীর বির\”দ্ধেই যতো অভিযোগ।
টানা ১৬ বছর ধরে তিনি সিলেটে কাজ করছেন সজল চক্রবর্তী। এর মধ্যে সিলেট সদর থানা সমবায় অফিসার হিসেবে আছেন ২০০৩ সাল থেকে। সিলেট সদরে তার বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও তিনি এই থানাতেই পোস্টিং নিতে সমর্থ্য হয়েছেন।
সদ্যবিদায়ী জেলা সমবায় অফিসার এসএম তারিকুজ্জামানের বির\”দ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। ২০০৪ সালে সিলেটে যোগদানের পর প্রথম দিকে সমিতি গঠনে তেমন আগ্রহ দেখাননি। এ সময় ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে জেলায় মোট ৩৪টি সমিতির রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। পরের বছরে করেছিলেন মোট ৫২টি। কিন\’ চলতি অর্থবছরে বদলি হওয়ার আগ পর্যনত্দ মাত্র ৬ মাসে ৮৪টি সমিতির রেজিস্ট্রেশন তিনি অনুমোদন প্রদান করেন। প্রতিটি সমিতির রেজিস্ট্রেশন দিতে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা উৎকোচ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ কোম্পানীগঞ্জ ও সদর উপজেলায় সিবিডিবি (সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি) নামের প্রজেক্টের আওতাধীন সমিতি গঠন নিয়ে। এই প্রজেক্টের আওতায় তড়িঘড়ি করে ৭৫টি সমিতি গঠনের উদ্যোগ নেন বদলির শেষ ২ মাসে। সমিতি গঠনে নানা অনিয়ম হলেও ইতিমধ্যে ২৫টি সমিতির রেজিস্ট্রেশন করে গেছেন তিনি। সমিতি গঠনের জন্য থানা সমবায় অফিসারদের তাগিদ দিয়ে অতিষ্ঠ করেছেন প্রতিনিয়ত।
জানা যায়, সিলেট জেলায় রেজিস্ট্রেশনভুক্ত অডিটযোগ্য বিভাগীয় সাধারণ সমিতির সংখ্যা ১১৬৯টি। এর মধ্যে বেশিরভাগই যুব, মৎস্যজীবী, বহুমুখী ও গৃহনির্মাণ সমিতি। এসব সমিতির মধ্যে খাদিমনগর বটেশ্বরস্থ শহীদ এমআর চৌধুরী গৃহনির্মাণ সমিতির দীর্ঘদিন থেকে অডিট হচ্ছে না। অডিট না হওয়ায় সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সমিতির নিয়মিত বৈঠকও হয় না। এ সবের পেছনে থানা সমবায় অফিসার সজল চক্রবর্তীর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সিলেট টাউন কোঅপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড নামের সমিতির কমিটির ওপর উচ্চ আদালতের
নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনত্দর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বারা এটি পরিচালিত হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। সজল চক্রবর্তী এবং সদ্যবিদায়ী জেলা সমবায় অফিসার তারিকুজ্জামানের যোগসাজশে সমিতির আইন উপেক্ষা করে সজল চক্রবর্তী এবং আল নাহার আর রহমান এই দুজনকে দিয়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে।
বিআরডিবির কেন্দ্রীয় সমিতি কানাইঘাট ইউসিসিএ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে উচ্চ আদালতে মামলা হয়েছে। আর এই মামলার ‘জবাব লেখা’র নামে বিবাদীগণের কাছে থেকে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সদ্য বিদায়ী জেলা সমবায় কর্মকর্তা।
এদিকে সিলেট কেন্দ্রীয় বহুমুখী সমবায় সমিতির (সিসি এমপিএস) কোটি টাকার সম্পত্তি বেদখল হয়ে থাকলেও তা উদ্ধারে সমবায় অফিস থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দক্ষিণ সুরমাস্থ কুমিল্লা বাসস্টেন্ড সংলগ্ন এই ভূমি চলতি জরিপে ভূমিখেকো চক্র নিজেদের নামে ‘মাঠ পরচা’ নিয়ে নিয়েছে। এই সমিতির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজল চক্রবর্তী। ভূমিদসু্যদের প্রতি তার সহযোগিতা থাকার অভিযোগ রয়েছে। মিরাবাজারস্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিয়নের দীর্ঘদিন থেকে কমিটি নেই। এই ইউনিয়নের ৫ কোটি টাকা মূল্যের ভূমিটি বিক্রির চেষ্টায় রয়েছেন ক’জন সমবায় কর্মকর্তা। এই জমিতে কালা মিয়া নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন থেকে অবৈধভাবে বসবাস করছেন। অভিযোগ রয়েছে সমবায় অফিসের কর্মকর্তারা কালা মিয়ার কাছ থেকে বখরা নিয়মিত পেয়ে থাকেন। এদিকে সজল চক্রবর্তী সিসিএমপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তাকে সিলেট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করেন। পাশাপাশি একই ব্যক্তিকে একই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটির সরকার মনোনীত সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেন তৎকালীন জেলা সমবায় কর্মকর্তা তারিকুজ্জামান। এর পেছনেও তাদের স্বার্থ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে সজল চক্রবর্তীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সঠিক নয়। নিজের উপজেলায় চাকরি করা যাবে না এ ধরনের নিয়ম নেই বলে জানান। তিনি বলেন, থানা সমবায় অফিসার হিসেবে তার এখনও তিন বছর হয়নি। সিসিএমপিসের ভূমি উদ্ধারে মামলা চলছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে সদ্য বিদায়ী জেলা সমবায় অফিসারের (এসএম তারেকুজ্জামান) মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মোবইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সূত্রঃ http://bhorerkagoj.net/online/news.php?id=43076&sys=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: