জাতীয় গৃডে সরবরাহ করা হবে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কাল থেকে উত্পাদনে যাচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড

অবশেষে উত্পাদনে যাচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড৷ আগামীকাল সোমবার এ গ্যাস ক্ষেত্র থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্পাদন শুরু হচ্ছে৷ আগামী ১৯ মার্চ চিফ অ্যাডভাইজর ড. ফখরুদ্দীন আহমদ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস উত্পাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন৷ এ গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গৃডে সরবরাহ করা হবে৷ বিবিয়ানায় গ্যাস উত্তোলনের দায়িত্বে নিয়োজিত আমেরিকান কম্পানি শেভরনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে৷
সূত্র জানায়, গ্যাস উত্পাদনের জন্য কয়েকটি কূপ পুরোপুরি প্রস্তুত৷ জাতীয় গৃডে সরবরাহের জন্য ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপ লাইনও নির্মাণ করা হয়েছে৷ প্রসেস প্লান্টের নির্মাণ কাজও এরই মধ্যে শেষ হয়েছে৷ এ অবস্থায় এখান থেকে উত্পাদিত ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস ট্রান্সমিশন কম্পানি লিমিটেডে (জিটিসিএল) সরবরাহ করা হবে৷ ২০০৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ গ্যাস ফিল্ডে উত্পাদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে তা পিছিয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান৷
জ্বালানি উপদেষ্টা তপন চৌধুরী গ্যাসকূপের অগ্রগতি দেখতে গত ২৬ জানুয়ারি আকস্মিকভাবেই বিবিয়ানা গ্যাসকূপ পরিদর্শন করেন৷ তিনি গ্যাসকূপের সাউথ প্যাডের ডৃলিং কাজ সরেজমিন প্রত্যক্ষ করেন৷ পরে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন৷ মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, এ কূপ চালু হলে দেশে আর গ্যাস সঙ্কট থাকবে না৷ পেট্রোবাংলা এবং শেভরনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন৷
২০০৫ সালে আমেরিকান কম্পানি শেভরন আরেক আমেরিকান কম্পানি ইউনোকলের কাছ থেকে একটি চুক্তির মাধ্যমে বিবিয়ানাসহ অন্যান্য গ্যাস ফিল্ডের দায়িত্ব বুঝে নেয়৷ এ চুক্তির আওতায় সে সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ইউনোকলের সব স্থাপনা শেভরনের কাছে হস্তান্তর করা হয়৷ এর আগে তেল গ্যাস অনুসন্ধানকারী আমেরিকান কম্পানি অক্সিডেন্টাল ১৯৯৫ সালে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির আওতায় বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত ১২, ১৩ ও ১৪ নাম্বার ব্লকে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের দায়িত্ব পায়৷ পরে ইউনোকলের কাছে পুরো দায়িত্ব হস্তান্তর করে অক্সিডেন্টাল৷
নবীগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল দিঘলবাক ইউনিয়নের বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ১৯৯৭ সালে অক্সিডেন্টাল বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের কাজ শুরু করে৷ পরের বছরই তারা সফলভাবে দুটি অনুসন্ধান কূপ খনন করে৷ বাংলাদেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় গ্যাস ফিল্ড হিসেবে বিবেচিত বিবিয়ানার নর্থ প্যাড এলাকায় পরে আরো চারটি গ্যাস কূপ খনন করা হয়৷ একই সঙ্গে এর আগে খনন করা অনুসন্ধান কূপ দুটিকে উত্পাদন কূপে রূপান্তর করা হয়৷ বর্তমানে সেখানকার ছয়টি কূপই উত্পাদন উপযোগী বলে কম্পানি সূত্র জানায়৷ সেখানে আরো একটি কূপ খননের কথা রয়েছে৷ কূপ খননের দায়িত্বে রয়েছে জার্মান কম্পানি ডয়টেক৷
বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্যাডে কূপ খনন, গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপন ও গ্যাস প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপনসহ সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ২৩ কোটি আমেরিকান ডলার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়৷ তবে শেষ পর্যন্ত এ পরিমাণ ২৫ কোটি ডলারে দাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=31258&issue=240&nav_id=7

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: