সিলেটে অপহৃত ব্যবসায়ী হাবিবের হদিস হয়নি আড়াই বছরেও

সিলেটের কোটিপতি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান অপহরণের আড়াই বছর অতিবাহিত হলেও তার কোন হদিস মেলেনি। তিনি চট্টগ্রামের কোটিপতি ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনের ভাগ্যবরণ করলেন কিনা সব মহলে এমন শংকা দেখা দিয়েছে। ঘুরেফিরে মামলাটি পুলিশ, গোয়েন্দা ও সিআইডি তদন- করলেও অদ্যাবধি এর কোন কূলকিনারা হয়নি। ২০০৪ সালের ১৭ অক্টোবর উপশহরে তার বাসার সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। এ ব্যাপারে তার ছোট ভাই রফিক উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেন। অপহরণ মামলাটি পুলিশ ও গোয়েন্দা ৪ মাস তদন- করে। এ সময় হাবিবুরের বাসার প্রাইভেটকার চালক মঞ্জু, দুই ভাগিনা আশুক উদ্দিন ও এমাদ উদ্দিনকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মামলার তদন- ফাইল দীর্ঘদিন ধরে সিআইডি’র লালফিতায় বন্দি। তদন-কারী সংস্থাগুলো হাবিবুর রহমান অপহূত হয়েছেন কিনা এ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে। তাদের ধারণা ছিল কোটিপতি হাবিব অপহূত হননি, আত্মগোপন করেছেন। কিন\’ আড়াই বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও অপহরণ না আত্মগোপন এর রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। হাবিব অপহরণের পর তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এ নিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। একপর্যায়ে খোদ হাবিবের পরিবার এবং আত্মীয়দের ওপর হাবিব নিখোঁজের দায় চাপিয়ে দিতে নানা তৎপরতা চালানো হয়। ক্ষমতাধরদের ইঙ্গিতে হাবিবের মামা শ্বশুর ও আওয়ামী লীগ নেতা মুহিবুর রহমানকে ফাঁদে ফেলার জন্য নানা কূটকৌশল অবলম্বন করে প্রশাসন।
হাবিবের পরিবারে এ নিয়ে এখন কোন তৎপরতা নেই। তাদের রহস্যজনক নীরবতা বিভিন্ন মহলে নানা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। অপহরণের পর হাবিবুর এখন কোথায়_ এ প্রশ্নের উত্তর নেই ৩টি সংস্থার কারও কাছেই। কোটিপতি হাবিবুর রহমান নিখোঁজের পরপরই সিলেটের ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে গেলেও এরপর আন্দোলনে ভাটা পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীরাও এখন চুপ। পাশাপাশি পুলিশ, গোয়েন্দা ও সিআইডিরও তেমন মাথাব্যথা নেই। পুলিশ, গোয়েন্দার হাত ঘুরে সিআইডিতে হস-ান-রের পর মামলার তদন- এখন ‘লাল ফিতায় বন্দি’।
মামলার কাগজপত্র বুঝে পাওয়ার পর হাবিবুরের গাড়ির ড্রাইভার ও দুই ভাগিনাকে এনে সিআইডি কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোন তথ্য পায়নি। হাবিবুর রহমান অপহরণ মামলা তদন- করতে গিয়ে তার পারিবারিক অশান-ির কিছু তথ্য পায় সিআইডি। এতে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক অশান-ির কারণেই হয়তো তিনি নিজেই আত্মগোপন করেছেন। তাছাড়া নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৬ মাস আগে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পর ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান মাদ্রাজেও যাওয়ার কথা বলেছেন অনেকের কাছে। কিন\’ তার পাসপোর্টে দেখা গেছে আবারও থাইল্যান্ডের ভিসা লাগানো।
ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান অপহূত হওয়ার পর শতবষর্ী পিতা হাজী আবদুর রহিমের দিন কাটছে অত্যন- কষ্টে। হাবিবের স্ত্রী টিপু সুলতানা বললেন, একদিন-দু’দিন করে আড়াই বছর কেটে গেল। কোথাও কোন হদিস নেই। এখন জীবিত না মৃত তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

সূত্রঃ http://jugantor.com/online/news.php?id=51444&sys=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: