সিলেটে গোয়েন্দা নজরদারিতে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী

সিলেটের শতাধিক দুনর্ীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী গোয়েন্দা নজরদারিতে। তারা বুঝে ওঠার আগেই গোয়েন্দারা তাদের দুনর্ীতির খতিয়ান হস-গত করে নিয়েছেন। গোয়েন্দারা তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার আগেই ব্যাংকে গিয়ে তাদের অ্যাকাউন্ট তদন- করে দেখেছেন। আয়ের সঙ্গে ব্যাংকে থাকা অর্থের অসামঞ্জস্য থাকায় তাদের অবৈধ অর্থ উপার্জনকারী বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দারা। শুধু ব্যাংকের অর্থ নয় তাদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মালিকানায় পরিচালিত ব্যবসা, স্থাবর ও অস্থাবর সমপত্তির হিসাবও এখন গোয়েন্দাদের হাতে। তাছাড়াও ওইসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দাফতরিক দায়িত্ব পালনকালে যেসব আচরণ করে থাকেন এ ব্যাপারেও নোট সংগ্রহ হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম আটক এবং গোয়েন্দাদের এমন তৎপরতায় বিভিন্ন সরকারি দফতরের দুনর্ীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে জনগণের সেবক না হয়ে নানা কৌশলে লোকজনকে জিম্মি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। আটক প্রকৌশলী সাইফুল তার দুনর্ীতির সঙ্গীদের নাম বলেছেন। তারা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এর আগে জালালাবাদ গ্যাসের সিবিএ নেতা মাসুক উদ্দিন নাম বলেছেন জালালাবাদ গ্যাস সংশ্লিষ্টদের। এর পাশাপাশি সরকারি অন্যান্য দফতরের কোনটিতে কার মাধ্যমে, কিভাবে ঘুষ আদায় হয় তা গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই সাদা পোশাকে সশরীরে প্রত্যক্ষ করেছেন। এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অতীত কার্যকলাপ বিশেষ করে দলীয় সরকারের আমলে প্রভাশালী নেতাদের শেল্টারে থেকে যেসব কর্মকর্তা দাপট, হুমকি-ধামকি, অনিয়ম-দুনর্ীতি, লুটপাট করেছেন সেসবের খোঁজ-খবরও নিয়েছেন গোয়েন্দারা। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এসব কর্মকর্তার অধিকাংশই অতীতের সব সরকারের আমলে ব্যাপক লুটপাট করেছেন। গত জোট সরকারের আমলে এদের অনেকেই লুটপাটের মহোৎসবে ছিলেন বেপরোয়া। গোয়েন্দাদের তৈরি করা দুনর্ীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তার তালিকায় শীর্ষে ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম। মঙ্গলবার নগরভবন ঘেরাও করে তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতেই তিনি প্রায় ২০ কোটি টাকার অবৈধ সমপদের হিসাব দিয়েছেন। তবে তার এই হিসাব নিয়ে বিতর্ক আছে। বিডিনিউজ২৪ডটকমের খবরে বলা হয়েছে, সাইফুল তার ৫০ কোটি টাকার সম্পদ থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বুধবার পর্যন- তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতে প্রকৌশলী সাইফুল আরও নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। সাইফুল তার দুনর্ীতির সঙ্গীদের নাম বললেও তদন-ের স্বার্থে এসব নাম গোপন রাখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন- র্যাব-৯ এর সদর দফতরে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত ছিল।
সিলেটে দুনর্ীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী আটকের শুরু জালালাবাদ গ্যাস ভবনের সিবিএ নেতা মাসুক উদ্দিন ওরফে গ্যাস মাসুককে আটকের মধ্য দিয়ে। এরপর গত মঙ্গলবার আটক করা হয় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে। এ দু’জনকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের পর জালালাবাদ গ্যাস ও সিটি কর্পোরেশনের দুনর্ীতি-লুটপাটের হোতাদের বেশ কিছু তথ্য বেরিয়ে আসে। দুনর্ীতিবাজ ও অসৎ কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িতদের তালিকায় জালালাবাদ গ্যাসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বর্তমানে বাখরাবাদ গ্যাসের পরিচালক আতিকুর রহমানের নামসহ বেশ কয়েকজন রয়েছেন জালালাবাদ গ্যাসের।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে সাইফুল ইসলামকে আটকের পর খোদ মেয়রসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে বুধবার দিনভর গুঞ্জন চলে। মেয়রের বিরুদ্ধে এর আগেই নগরীর শিবগঞ্জের কিচেন মার্কেট লিজ প্রদানে দুনর্ীতির ব্যাপারে দুদক মামলা করেছে। আগামী ২৭ মার্চ মেয়র এই মামলায় আদালতে হাজিরা দেয়ার কথা। মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ছাড়াও নগরভবনে সবচেয়ে বেশি গুঞ্জন চলছে সুবিধাভোগী পিতা-পুত্রকে ঘিরে। নগরভবনের সচিব মুহিবুর রহমান ও পুত্র মোঃ মনছুফের বিরুদ্ধে দুনর্ীতির এন-ার অভিযোগ রয়েছে। নগরভবনের কথিত দুনর্ীতির বরপুত্র সচিব মুহিবুর রহমানের চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি এখনও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র নিয়ে নানা প্রশ্ন এখনও মুখে মুখে। সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল পদে থাকায় তিনি পুত্রের জন্য ভালো চাকরির বন্দোবস- করে দেন নগরভবনে। এখন পুত্র মোঃ মনছুফ নগরভবনের প্রধান হিসাবরক্ষক। এই পিতা-পুত্রের কাছে গোটা নগরভবনই অনেকটা জিম্মি বলে অভিযোগ রয়েছে। নগরভবনে চাকরির সুবাদে তারা এখন কোটি কোটি টাকা, গাড়ি ও বাড়ির মালিক। নগরীতে তাদের বাড়িটি নিয়ে রয়েছে নানা কথা। জালালাবাদ গ্যাস, সিটি কর্পোরেশনের পর সিলেটের দুনর্ীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তার তালিকায় রয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিদু্যৎ উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত তার ও টেলিফোন বিভাগের প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্টদের অনেকেই। দুনর্ীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকায় আরও রয়েছেন পাসপোর্ট অফিস, বন বিভাগ, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের অনেকেই। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন কার্যালয় ছাড়াও বিভিন্ন থানার দায়িত্বশীল অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামও রয়েছে গোয়েন্দার তালিকায়। বর্তমানে দুনর্ীতিবাজরা অনেকটা গোয়েন্দা জালে আটকা। সময়ের ব্যবধানে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নগরভবন থেকে সাইফুল ইসলামকে আটকের পর এখন বিভিন্ন সরকারি দফতরে আতংক ছড়িয়েছে। দাফতরিক দায়িত্ব পালনে তারা এখন অত্যন- সতর্ক।
সূত্রঃ http://jugantor.com/online/news.php?id=54074&sys=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: