মেয়র কামরানের দুর্নীতির নানা কাহিনী

দুর্নীতি মামলায় কারাগারে আটক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের অনিয়ম ও দুর্নীতির আরো নানা কাহিনী বেরিয়ে আসায় নগরজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মধুর ব্যবহার ও বিনয়ের মাধ্যমে কামরান অনেকের হৃদয় জয় করেন। তারা কেউই বিশ্বাস করতেন না কামরান দুর্নীতিবাজ। কিন্তু তাদের এ বিশ্বাসে চিড় ধরায় তারাও ধিক্কার দিচ্ছেন মেয়রকে। সিটি করপোরেশনের দুর্নীতিবাজ চক্রের মাত্র তিনজন ধরা পড়লেও এখনো সচিবসহ অন্যান্য দুর্নীতিবাজরা বহাল তবিয়তে রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিচেন মার্কেট লিজ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত ১৯ জনের মধ্যে মেয়র কামরান ও লিজ গ্রহীতা, যুবলীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ জেলহাজতে থাকলেও বাকি ১৭ জন এখনো গ্রেফতার হননি। আগামী ১২ এপ্রিল দুর্নীতি মামলায় বিচার কাজ শুরু হবে বিভাগীয় বিশেষ আদালতে। ওই দিন তারা আদালতে হাজির হতে পারেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। পানি শাখা মেয়রের নিয়মিত আয়ের উৎস ছিল

সিটি করপোরেশনের পানি শাখা মেয়র কামরানের অবৈধ আয়ের একটি নিয়মিত উৎস ছিল বলে জানা গেছে। এই শাখার পানি চোর চক্রের কারণে নগরবাসীকে সারাবছর দুর্ভোগ পোহাতে হতো। পানি সুপারের দায়িত্বে নিয়োজিত আব্দুস সোবহান ঘুষের বিনিময়ে কয়েক হাজার অবৈধ পানির সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। বৈধ গ্রাহকরা পানি না পেলেও ঘুষের বিনিময়ে সংযোগপ্রাপ্তরা ঠিকই পানি পেতেন। সোবহানের এই পানি বাণিজ্যে মেয়রের ভাগ ছিল বলে জানা গেছে। গত বছর সোবহানের নানা অপকীর্তি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলে মেয়র অনেকটা বাধ্য হয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। কিন্তু পরে তাকে আবার পুনর্বহাল করেন মেয়র।
প্রকৌশল বিভাগের সব অবৈধ আয়ের ভাগ পেতেন মেয়র
সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ ছিল মেয়রের অবৈধ আয়ের অন্যতম একটি উৎস। নির্মাণাধীন বিভিন্ন বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নকশা প্রস্তুত ও অনুমোদনের দায়িত্বে নিয়োজিতরা লোকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করতেন। এ ঘুষের একটি অংশ মেয়রকে দেয়া হতো। আটক প্রধান প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল হক মিয়াজী জিজ্ঞাসাবাদে অবৈধ আয়ের একটি অংশ মেয়র পেতেন বলে জানিয়েছেন।

মার্কেট নির্মাণের নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
নগরের প্রাণকেন্দ্র বন্দর বাজারে অবস্থিত হাসান মার্কেট ভেঙে সেখানে চারতলা বিশিষ্ট আধুনিক মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৯৭ সালে। মার্কেটের ডিজাইন প্রস্তুত করে শুরু হয় দোকান। দুই মাসের মধ্যেই সব দোকান বিক্রি করে কোটি টাকারও বেশি অর্থ পকেটস্থ করার অভিযোগ রয়েছে দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্জিত অর্থের একটি অংশ তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান ও বর্তমান সিটি মেয়র বদর উদ্দিন কামরান পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও মার্কেট নির্মাণের কোনো তৎপরতাই পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

দুদক একাধিক মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে
মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গ্রেফতারের আগে ও পরে মেয়র কামরানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে দুদক। গুরুতর অভিযোগগুলো প্রাধান্য দিয়ে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। এসব অভিযোগের আলোকে এজাহার দাখিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি চাইবে দুদক।

কুমিল্লা কারাগারে স্থানান্তর
দুর্নীতি মামলায় আটক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কুমিল্লা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। গত রোববার কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে সনধ্যা ৭টায় কামরানকে কুমিল্লা কারাগারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কড়া নিরাপত্তা ছিল সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে। গত শুক্রবার মেয়র কামরানকে গ্রেফতার করা হয়। জেল কোড অনুযায়ী তাকে ডিভিশন দেয়া হয়। দুই দিন তিনি সিলেট কারাগারে ছিলেন। তাকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল সে কক্ষে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোহামমদ নাসিম ও লোটাস কামাল।

আযম খান ভারপ্রাপ্ত মেয়র
নগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকার বাসিন্দা ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার আযম খানকে সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি আজ দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। মেয়র কামরান গ্রেফতার হওয়ার আগেই আযম খান তার অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন বলে চিঠি ইস্যু করে যান। সিটি করপোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী আযম খান এ দায়িত্ব পেলেও মেয়রের প্রস্তাবনা নিয়ে নগরজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্বল্প শিক্ষিত, সহজ-সরল আযম খানকে মেয়র কেন বাছাই করলেন, তা নিয়ে নানা মহলে চলছে অনেক কথাবার্তা। কেউ কেউ মনে করেন মেয়রের দুর্নীতির গোপন রহস্য যাতে ফাঁস না হয় সে জন্য তিনি আযম খানকে বেছে নিয়েছেন। Source:দৈনিক নয়া দিগন্ত
Date:2007-04-10

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: